সেমিকন্ডাক্টরে ইতিহাস গড়ছে ভারত! ওড়িশায় আসছে ইন্টেলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বড় ঘোষণা অশ্বিনী বৈষ্ণবের

সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিশ্বের দরবারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন যে, দেশে অত্যাধুনিক ‘সাবস্ট্রেট’ (Substrate) উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে আসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ওড়িশা সরকার, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেল (Intel) এবং 3DGS।
কেন এই চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ?
সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো সাবস্ট্রেট। এই প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত চিপগুলোকে প্রয়োজনীয় সংযোগ ও সুরক্ষা প্রদান করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতা স্মারক ভারতের অভ্যন্তরীণ চিপ উৎপাদন ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক্স সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
সামাজিক মাধ্যমে এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অভিনন্দন জানান এবং উল্লেখ করেন যে, এটি ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর রোডম্যাপ: এক নজরে
ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সেমিকন্ডাক্টর মিশনকে (ISM) অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। এই অগ্রগতির কিছু মূল দিক হলো:
বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: সম্প্রতি ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে প্রায় ৩,৯৩৬ কোটি টাকার দুটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২,২৩০ জন দক্ষ কর্মীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি: প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (GaN) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে দেশের প্রথম বাণিজ্যিক মিনি/মাইক্রো-এলইডি ডিসপ্লে ইউনিট এবং গুজরাটে একটি অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং কেন্দ্র।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যেই ভারতে চারটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এরপর ২০২৭ সালে আরও দুটি প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ধোলেরা প্রজেক্ট: দেশের প্রথম ফ্যাব্রিকেশন ইউনিটটি ধোলেরাতে স্থাপিত হচ্ছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক উপাদান, বিশেষ গ্যাস এবং টেস্টিং অবকাঠামো তৈরির ওপর সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ভারত অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর হাব হয়ে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল।