আগুনের পরশমণিতে বিদায়! অকালপ্রয়াত পরিচালকের শেষযাত্রায় চোখের জলে ভাসল নন্দন ও এনটিওয়ান

শোকের চাদরে ঢাকা টলিপাড়া। আজ শুক্রবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর স্রষ্টাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এদিন নন্দন থেকে এনটিওয়ান স্টুডিও—সর্বত্রই ছিল অনুরাগীদের ঢল।
শেষ শ্রদ্ধায় নক্ষত্রপতন:
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পরিচালকের মরদেহ নন্দনে আনা হয়। সেখান থেকে সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এনটিওয়ান স্টুডিওতে। শেষযাত্রার পুরো তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। প্রিয় পরিচালককে শেষ দেখা দেখতে এনটিওয়ান স্টুডিওর তিন নম্বর স্টুডিওতে হাজির হন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী, গৌতম ঘোষ, জিৎ, সুদেষ্ণা রায়, বিদীপ্তা চক্রবর্তী ও লগ্নজিতা চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বরা।
পরিচালকের নিথর দেহের পাশে প্রিয়জনদের কান্নার রোল ছিল হৃদয়বিদারক। বিশেষ করে, চৈতালি দাশগুপ্ত, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং ‘অপরাজিত’ ছবির জীতু কমলের বিষণ্ণ মুখ ছিল দেখার মতো। রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আগুনের পরশমণি’ গেয়ে বিদায় জানানো হয় তাঁকে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন প্রবীণ বামনেতা বিমান বসু এবং শতরূপ ঘোষও। বিমানবাবু আক্ষেপ করে বলেন, “এই সমাজকে অনীক যা দিতে পারতেন, তার চেয়ে অনেক কমই দিয়ে যেতে পারলেন।”
মৃত্যুর তদন্ত:
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে হিন্দুস্তান পার্কের নিজের আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় অনীক দত্তের। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, দেহের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত, মাথায় রক্তক্ষরণ ও পাঁজর ভেঙে যাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের হাতে আসা একটি ‘সুইসাইড নোট’-এ সুইডেনবাসী মেয়ের উদ্দেশ্যে নিজের নিঃসঙ্গতার কথা লিখে গেছেন পরিচালক। সিসিটিভি ফুটেজেও পুরো ঘটনার সত্যতা মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
বাঙালি হৃদয়ে অম্লান:
রাজনৈতিক স্পষ্টবাদিতা এবং ব্যঙ্গাত্মক চিত্রনাট্যের জন্য অনীক দত্ত চিরকাল দর্শকের মনে বেঁচে থাকবেন। তাঁর অকাল প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজ এক নক্ষত্রের পতন হলো, কিন্তু তাঁর তৈরি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘অপরাজিত’ কিংবা ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর মতো ছবিগুলো চিরকাল বাংলা সিনেমার সম্পদ হয়েই থাকবে।