“ওরা কাঁটাতার লাগানোর কাজে বাধা দিলে…”-বাংলাদেশের BGB-কে সরাসরি হুঙ্কার মিঠুনের!

রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে শুরু হয়েছে নতুন উদ্যোগ। সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হতেই কোচবিহারের তিন বিঘা করিডর এলাকায় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-র তরফ থেকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বিএসএফ-কে। আর এই পরিস্থিতিতে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।
বিজিবি-কে মিঠুনের হুঙ্কার কোচবিহারের একটি ক্যানসার সেন্টার পরিদর্শন করতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সীমান্তে কাঁটাতারের কাজে বিজিবি-র বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এবার এই কাজটা তারা করলে কী হয়, সেটা দেখুন।” তিনি সরাসরি কোনো তর্কে না জড়িয়ে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কাজ কোনোভাবেই বন্ধ রাখা হবে না। রাগের মাথায় বড় কোনো মন্তব্য করে ফেলার আশঙ্কায় তিনি বেশিক্ষণ কথা না বাড়ালেও, বিজিবি-র ধমকিতে সরকার যে মাথা নত করবে না, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
অনুপ্রবেশ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, অনুপ্রবেশ রোখা বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, নির্বাচনের আগেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থেই রাজ্য সরকার এখন বিএসএফ-কে কাঁটাতারের কাজ করার জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তর করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় সিদ্ধান্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের তিন বিঘা করিডরের কলসিগ্রামে বিএসএফ সমীক্ষার কাজ শুরু করে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজিবি আপত্তি জানায়।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে বিএসএফ ও বিজিবি-র মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়ও বিএসএফ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় রাজ্যের তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার কারণে যে কাজ থমকে ছিল, বিজেপি সরকার আসতেই তা দ্রুত গতি পাওয়ায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, বিজিবি-র এই বাধার মুখে দাঁড়িয়ে ভারত সরকার ও বিএসএফ তাদের এই নির্মাণ কাজ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে।