সীমান্তে কি ফিরবে শান্তি? ভারত-চীন হাইভোল্টেজ বৈঠকে বেইজিংয়ে কোন বার্তা মিলল?

ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘পরামর্শ ও সমন্বয় কার্যপ্রণালী’ (WMCC)-এর ৩৫তম বৈঠক। ২৭ মে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। তবে আলোচনার টেবিলে এই ‘ইতিবাচক’ বার্তার আড়ালে লাদাখের বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে এখনও সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
বৈঠকের নির্যাস
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুগ্ম সচিব (পূর্ব এশিয়া) সুজিত ঘোষ এবং চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হোউ ইয়ানচি। বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নতুন ব্যবস্থা তৈরি এবং আন্তঃসীমান্ত নদী (সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র) নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা দ্রুত শুরুর ওপর জোর দিয়েছে ভারত। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষে আগামী দিনে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ (SR) পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
কূটনৈতিক আলাপ বনাম বাস্তবের কঠিন মাটি
২০২০ সাল থেকে পূর্ব লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা আজও পূর্ণাঙ্গভাবে কাটেনি। যদিও গালওয়ান উপত্যকা বা প্যাংগং সো-র মতো কিছু এলাকা থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া হয়েছে, কিন্তু এলএসি-র সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের।
সেনা মোতায়েন: সীমান্তে উভয় দেশের হাজার হাজার সৈন্য ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এখনও মোতায়েন রয়েছে।
প্রধান বাধা: ডেমচক এবং দেপসাং-এর মতো কৌশলগত এলাকায় টহল দেওয়ার অধিকার পুনরুদ্ধার করা এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে।
ভারতের অবস্থান ও ‘বল এখন চীনের কোর্টে’
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বরাবরই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—সীমান্তে ২০২০ সালের আগের অবস্থা (Status Quo Ante) ফিরে না আসা এবং সেনা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব নয়। বেইজিং-এর সাথে এই বৈঠকটি আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও, প্রকৃত শান্তি আসবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে আসন্ন ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ পর্যায়ের বৈঠকে চীন কতটা বাস্তব পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।
বিশ্বের নজর এখন সেই বৈঠকের দিকে—চীন কি সেনা প্রত্যাহারে ইতিবাচক সাড়া দেবে, নাকি এলএসি-তে এই ‘ঠান্ডা উত্তেজনা’ই বজায় থাকবে?