‘অনীক দা সত্যিই অপরাজিত’, প্রিয় পরিচালকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সায়নী ঘোষ

বুধবার দুপুরে টলিপাড়ায় নেমে এল শোকের ছায়া। দক্ষিণ কলকাতায় নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে প্রয়াত হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক অনীক দত্ত। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর মতো কালজয়ী ছবির স্রষ্টাকে হারিয়ে স্তব্ধ চলচ্চিত্র জগৎ। এই দুঃখজনক খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন শোকবার্তা লিখলেন অভিনেত্রী-সাংসদ সায়নী ঘোষ।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে শিল্পীসত্তা:
অনীক দত্তের প্রয়াণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নী লিখেছেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে মানুষ অনীক দত্ত, শিল্পী অনীক দত্ত। আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র উনি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর মনন, তাঁর চেতনা বারবার মুগ্ধ করেছে।” সায়নীর এই বার্তা ফিরিয়ে আনল কয়েক বছর আগের ‘অপরাজিত’ বিতর্কের কথা। সে সময় যখন অনীক দত্তর সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে তৈরি ছবি নন্দনে জায়গা পায়নি, তখন সায়নী প্রকাশ্যে পরিচালকের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছিলেন। সায়নী স্পষ্ট বলেছিলেন, “এটা শুধু অনীক দত্তর ছবি নয়, এটা সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে তৈরি ছবি। এটি নন্দনে জায়গা না পাওয়া খুব কষ্টের।” আজ পরিচালকের প্রয়াণে সেই সম্মানের জায়গাটিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
বাংলা সিনেমার ‘স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর’:
বিজ্ঞাপনের জগত থেকে চলচ্চিত্রে আসা অনীক দত্ত বাংলা সিনেমার এক অনন্য নাম। তাঁর পরিচালিত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছিল বাংলা কমেডির সংজ্ঞাকে বদলে দেওয়া এক ছবি। এরপর ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ বা ‘অপরাজিত’—প্রতিটি ছবিতেই তাঁর সামাজিক পর্যবেক্ষণ ও তীক্ষ্ণ রসবোধ ফুটে উঠেছে। ২০২৫ সালে মুক্তি পায় তাঁর শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’।
মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা:
পরিচালকের অকাল ও আকস্মিক প্রয়াণ ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেয়নি পরিবার বা পুলিশ। তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। তবে রহস্যের উর্ধ্বে এখন বড় হয়ে উঠেছে একজন শিল্পীর শূন্যতা। সায়নী ঘোষের কথায়, “অনীক দা সত্যিই অপরাজিত। শিল্পে, সিনেমায় এবং জীবনে তাঁর কোনো বিকল্প নেই।”
বাঙালির মননশীল সিনেমার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল আজ। অনীক দত্তর সৃষ্টিই তাঁকে দর্শক হৃদয়ে অমর করে রাখবে।