কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরানো হলো তৃণমূল নেতাকে! কাঁচরাপাড়ায় তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ রায় ওরফে ‘বনি’-কে পুলিশের কোমরে দড়ি পরিয়ে এলাকা ঘোরানোর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার সকালে স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় অভিযুক্ত নেতাকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নিয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
কয়েকদিন আগেই মন্দারমণি থেকে অভিজিৎ রায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। শুক্রবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে যখন কাঁচরাপাড়ায় আনা হয়, তখনই তাকে প্রকাশ্যে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর এই দৃশ্য দেখা যায়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আমি বনি’ পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা এই নেতার এই করুণ দশা দেখে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা অনেকেই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেন, যা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক:
প্রকাশ্যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে এভাবে ঘোরানোর পদ্ধতি নিয়ে এলাকায় দুই ধরনের মত উঠে আসছে:

সমর্থকদের মত: পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে অনেকেই একে দেখছেন, যেখানে অভিযুক্তরা আইনের চোখে সমান—এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সমালোচকদের মত: অপর এক পক্ষ আবার এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ এবং পুলিশের ‘অতিরিক্ত কঠোরতা’ বলে সমালোচনা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করা বা ঘোরানো আইনত কতটা সঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবে দলের অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তি ও চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির পুলিশের এই ভূমিকা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব হয়েছে।

বীজপুর থানা পুলিশের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয় রাজনৈতিক আবহ তুঙ্গে। মানবাধিকার কর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও পুলিশের এই ‘পদ্ধতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এখন দেখার, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ বা নির্দেশিকা সামনে আসে কি না।