‘স্ত্রী পরিচারিকা নন, বিবাহ চাকরির চুক্তি নয়!’ বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ঐতিহাসিক রায় হাই কোর্টের

বিবাহিত জীবনে রান্নাবান্না বা ঘর পরিষ্কার করা স্ত্রীর জন্য কোনো বাধ্যতামূলক কাজ নয়—এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানাল বম্বে হাই কোর্ট। স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুরতা’ ও ঘরকন্নার কাজে অক্ষমতার অভিযোগ তুলে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন এক স্বামী। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বিবাহ কোনো চাকরির চুক্তি নয়।
মামলার প্রেক্ষাপট:
২০০২ সালে বিবাহিত জীবনে আবদ্ধ হন ওই যুগল। পরবর্তীতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে স্বামীর তরফ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করা হয়। বান্দ্রার পরিবার আদালত স্বামীর যুক্তি মেনে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিলেও, বিষয়টি গড়ায় বম্বে হাই কোর্টে। গত ৮ মে হাই কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে, বাড়ির কাজে অক্ষমতাকে ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
দুই বিচারপতির বেঞ্চ তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, “বিবাহ হল সমতার অংশীদারিত্ব। এটি কোনও সেবা চুক্তি বা চাকরির চুক্তি নয়। স্ত্রীকে সেবাদাসী ভাবা অনুচিত।” আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, একজন নারীর রান্নাবান্না বা ঘর পরিষ্কার করার কাজে অক্ষমতাকে কোনোভাবেই নিষ্ঠুরতা হিসেবে দেখা যায় না।
ভরণপোষণ নিয়ে রায়:
বিচারিক প্রক্রিয়ায় উঠে আসে, নিম্ন আদালত শুধুমাত্র স্ত্রী একটি ‘শিল্প ও কারুশিল্প’ ক্লাসের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন বলেই তাঁর ভরণপোষণের দাবি খারিজ করে দিয়েছিল। হাই কোর্ট এই যুক্তি নাকচ করে জানিয়ে দেয়, ওই কাজের মাধ্যমে স্ত্রীর যে উল্লেখযোগ্য বা নিয়মিত আয় হয়, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
স্বামীর আর্থিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে আদালত জানায়, যেহেতু স্বামী একজন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এবং তিনি স্ত্রীর খরচ বহনে সক্ষম, তাই তাঁকে দায়িত্ব নিতেই হবে। আদালতের নির্দেশে, বিবাহবিচ্ছেদের শর্ত হিসেবে ওই ব্যক্তিকে স্ত্রীকে প্রতি মাসে মাসিক ভরণপোষণ ভাতা বাবদ ১০,০০০ টাকা এবং বাসস্থানের জন্য আরও ১০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে।