এয়ার ইন্ডিয়ার বড় সিদ্ধান্ত! জ্বালানির খরচ সামলাতে বন্ধ হচ্ছে প্রচুর ফ্লাইট, আপনার রুট কি তালিকায়?

জেট ফুয়েলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে পড়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল টাটা গ্রুপের বিমান সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’। আগামী জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত সংস্থার ডমেস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ২২ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ২৭ শতাংশ কমিয়ে আনার ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্লাইট কমানোর নেপথ্যে কারণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খরচই এখন বিমান সংস্থাগুলির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যা পরিচালন ব্যয়ের ৪০ শতাংশ ছিল, তা এখন বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং দীর্ঘতর বিমান রুট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় পরিচালন ব্যয় আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।
প্রভাবিত রুট ও পরিষেবা:
-
অভ্যন্তরীণ: প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭৯০টি ডমেস্টিক ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে।
-
আন্তর্জাতিক: প্রায় ১০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কমানো হচ্ছে।
-
স্থগিত রুট: যাত্রী পরিবহণ সক্ষমতা বজায় রাখতে দিল্লি-শিকাগো, দিল্লি-নেওয়ার্ক, মুম্বই-নিউ ইয়র্ক, দিল্লি-সাংহাই, চেন্নাই-সিঙ্গাপুর, মুম্বই-ঢাকা এবং দিল্লি-মালে রুটে পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
আর্থিক মন্দার চাপ: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষতির পরিমাণ ২৬,৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। টাটাদের সঙ্গে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের যৌথ উদ্যোগে থাকা এই বিমান সংস্থার নিট মুনাফাতেও বড় ধস নেমেছে। একীভূতকরণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং এয়ার ইন্ডিয়ার এই লোকসান সংস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে।
যাত্রীদের জন্য বার্তা: এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বাজারের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় পরিষেবা স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এডিটরস টিপ: আপনি যদি এই রুটগুলোর কোনোটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এয়ার ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে আপনার ফ্লাইটের বর্তমান স্ট্যাটাস দ্রুত চেক করে নিন।