তৃণমূলের ঘর ভাঙছে কলকাতা পুরসভায়! পদত্যাগের পথে আরও দুই কাউন্সিলর, তুঙ্গে জল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনীতিতে একের পর এক বড় ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার সেই অস্থিরতার আঁচ সরাসরি কলকাতা পুরসভার অন্দরে। জানা যাচ্ছে, দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের জেরে আজই ইস্তফা দিতে চলেছেন কলকাতা পুরসভার এক বরো চেয়ারম্যান এবং এক পদাধিকারী।
পুরসভায় ইস্তফার হিড়িক:
সূত্রের খবর, আজ বিকেলের দিকে ওই দুই জনপ্রতিনিধি পুরসভায় পৌঁছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের হাতে নিজেদের পদত্যাগপত্র তুলে দিতে পারেন। যদি মেয়র উপস্থিত না থাকেন, তবে পুর কমিশনারের কাছে তাঁরা ইস্তফা জমা দেবেন। কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির এক সদস্য এবং এক বরো চেয়ারম্যানের এই সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরভবনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এর আগে বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের পদত্যাগ সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। দেবলীনা ইতিমধ্যেই তাঁর অফিসের চাবি হ্যান্ডওভার করে দিয়েছেন।
কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা:
দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির নোটিস এবং দলের চাপকে কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও, আজ যাঁরা ইস্তফা দিতে চলেছেন, তাঁদের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা। ইস্তফার পরই তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। পর পর জনপ্রতিনিধিদের সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম ও বর্তমান পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
দলে বাড়ছে ক্ষোভ:
শুধু কলকাতা নয়, জেলা স্তরেও তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ দানা বাঁধছে। কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি দলের একাংশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC-কে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “আমরা I-PAC আতঙ্কে ভুগতাম। এই সংস্থার কারণেই শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।” দলের এই ভরাডুবির জন্য I-PAC-এর ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দাবিও তুলেছেন তিনি।
একদিকে কলকাতার প্রশাসনিক দপ্তরে বিদ্রোহ, অন্যদিকে জেলায় জেলায় নেতাদের ক্ষোভ— সব মিলিয়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারণ এখন একটাই, কীভাবে এই ‘ঘর ভাঙা’ আটকানো সম্ভব হবে।