অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার! কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন সিদ্দারামাইয়া? নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন?

কর্নাটকের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পথে সিদ্দারামাইয়া। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বৃহস্পতিবারই তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে খবর। তাঁর জায়গায় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কর্নাটক কংগ্রেসের ‘বস’ ডিকে শিবকুমারের নাম এখন সবথেকে বেশি চর্চায়।

কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন?
২০২৩ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে এক ধরণের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ছিল। সেই সময় সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমার—উভয়েই এই পদের দাবিদার ছিলেন। অভিজ্ঞতার বিচারে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলেও, তখনই শোনা গিয়েছিল যে আড়াই বছর পর এই পদে পরিবর্তন আসতে পারে। সেই চুক্তিমতোই এবার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিদ্দারামাইয়ার পরবর্তী ভূমিকা কী?
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্দারামাইয়াকে গুরুত্বহীন করে রাখতে রাজি নন। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিল্লি থেকে তাঁকে বড় কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। সিদ্দারামাইয়া নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেসের ম্যারাথন বৈঠকের পরেই এই বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে রাজ্যসভার নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা বলে দাবি করা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক মহলে অন্য খবর। বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্দারামাইয়া তাঁর মন্ত্রীদের নিয়ে প্রাতঃরাশ বৈঠক ডেকেছেন। সেখানেই তিনি নিজের ইস্তফার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ বুধবারই বেঙ্গালুরু পৌঁছাচ্ছেন কর্নাটকের কংগ্রেস ইন-চার্জ রণদীপ সূরজেওয়ালা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কর্নাটকের মসনদে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। ডিকে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখার দীর্ঘদিনের দাবি এবার পূরণ হওয়ার পথে।