“মাটির অভাবে থমকে প্রতিমা তৈরির কাজ”-দুর্গাপুজোর আগেই কুমোরটুলিতে চরম সংকট!

দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ এগিয়ে আসছে, কিন্তু মৃৎশিল্পের প্রাণকেন্দ্র কুমোরটুলির অলিগলিতে এখন আর মাটির স্তূপ চোখে পড়ছে না। প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ—বিশেষ ধরনের মাটির তীব্র সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কুমোরটুলির চাকা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাজ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পীরা।
থামল প্রতিমা গড়ার কাজ রবীন্দ্র সরণি থেকে বনমালী সরকার স্ট্রিট—কুমোরটুলির সর্বত্রই এখন থমথমে পরিবেশ। প্রতি বছর এই সময়ে যে ব্যস্ততা থাকে, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, এই সময় থেকেই প্রতিমার কাঠামো তৈরি ও খড় বাঁধার কাজ পুরোদমে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু মাটি না আসায় সব কাজই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
দালালচক্র না নিয়মকানুন, দায়ী কে? এই সংকট নিয়ে কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবু পাল অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, “আগে মাটি সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাটিই তৃণমূলের দালালদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি আসত। কিন্তু এখন সেই সরবরাহকারীরা উধাও। বিজেপির তরফে বলা হচ্ছে, চালান কেটে বৈধভাবে মাটি নিতে হবে। এতদিন যে অবৈধভাবে মাটি আসত, তা আমরা জানতাম না।”
আন্দোলনের পথে শিল্পীরা মাটির জোগান স্বাভাবিক করতে মঙ্গলবারও দফায় দফায় বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করেছেন মৃৎশিল্পী সমিতির সদস্যরা। বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্তর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী তাঁদের একটি পিটিশন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সমিতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত সমাধান না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথেই হাঁটবেন।
ফলতা, বিষ্ণুপুর, ডায়মন্ড হারবার ও ক্যানিংয়ের মতো এলাকাগুলি থেকে নিয়মিত মাটি সরবরাহ দ্রুত চালু না হলে, পুজোর মুখে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কুমোরটুলির কয়েক হাজার মৃৎশিল্পী ও শ্রমিক।