অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ: বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাসগত (Demographic) ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ‘উচ্চপর্যায়ের কমিটি’ বা ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ গঠন করল মোদী সরকার।
কাদের নেতৃত্বে কাজ করবে এই কমিটি? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে। তাঁর নেতৃত্বে একঝাঁক অভিজ্ঞ আমলা ও বিশেষজ্ঞ এই কমিটিতে কাজ করবেন।
কমিটির সদস্য তালিকা: এই বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দেশের শীর্ষস্তরের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে:
-
সদস্য: জনগণনা কমিশনার (পদাধিকারবলে)।
-
সদস্য: দুর্গা শঙ্কর মিশ্র (অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক)।
-
সদস্য: বালাজি শ্রীবাস্তব (অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক)।
-
সদস্য: ডক্টর শমিকা রবি (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ)।
-
সদস্য সচিব: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স-১ বিভাগের যুগ্ম সচিব।
কেন এই কমিটি গঠন? ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কেন্দ্রের মতে, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে দেশের জনবিন্যাসগত পরিবর্তন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, এই বদল কেবল দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা, সুপ্রাচীন সামাজিক কাঠামো এবং আদিবাসী ও জনজাতীয় সমাজের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
কমিটির লক্ষ্য:
-
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের একটি বিস্তৃত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করা।
-
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করা।
-
সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখে এই অনুপ্রবেশ ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা কাটানোর একটি সুপরিকল্পিত ও সময়াবদ্ধ স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে মোদী সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও জনমিতিক সুরক্ষার প্রশ্নে একটি নতুন প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করল। আগামী দিনে এই কমিটির রিপোর্ট দেশের শরণার্থী ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।