ব্যক্তিগত কারণ নাকি অন্য কিছু? মোহনবাগানের পদ ছাড়লেন কুণাল ঘোষ

আচমকা মোহনবাগান ক্লাবের সহসভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোমবার বিকেলে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্তের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রটি পোস্ট করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। কুণাল ঘোষের এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে সবুজ-মেরুন শিবিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ?
নিজের ইস্তফার কারণ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধের ভূমিকা নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রিয় মোহনবাগান ক্লাবের সহসভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। দু’দফায় এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সহসভাপতি হতে পেরে আমি ধন্য।”
আবেগঘন স্মৃতিকথা:
ইস্তফাপত্রের সঙ্গে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। একটি ১৯৮৫ সালের, যেখানে তরুণ বয়সে তাঁকে মোহনবাগান মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। অন্যটি ২০২৫ সালে স্কটল্যান্ডে তোলা ছবি, যেখানে তাঁর পোশাকের মোহনবাগান প্রীতির ছাপ স্পষ্ট। ছোটবেলা থেকে গ্যালারিতে বসে প্রিয় ক্লাবের খেলা দেখার স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, “জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মোহনবাগান আমার জীবনের অংশ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে যখন ক্লাব সাসপেনশনের মুখে পড়েছিল, তখন সমর্থক হিসেবে তিনি সক্রিয় আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ চালু করার উদ্যোগ নিতে পারায় তিনি সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসুর নেতৃত্বে মোহনবাগান আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রিয় মোহনবাগান ক্লাবের সহসভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। ব্যক্তিগত কারণ। কেউ আমাকে এবিষয়ে একটি কথাও বলেননি। দু’দফায় এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সহসভাপতি হতে পারায় আমি ধন্য।
* দুটি ছবি দিলাম। একটি 1985 সালে, সবান্ধবে মোহনবাগান মাঠে। অন্যটি 2025 সালে স্কটল্যান্ডে।
* মাননীয়… pic.twitter.com/gXUrxnvkh4— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) May 26, 2026
ভবিষ্যৎ কী?
পদ ছাড়লেও তিনি যে চিরকাল মোহনবাগানের সদস্য ও সমর্থক হিসেবে ক্লাবের পাশেই থাকবেন, তা তিনি বারবারই বুঝিয়ে দিয়েছেন। ২৫ মে পাঠানো একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাকেও তিনি তাঁর ইস্তফার চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে বলেছেন। কুণাল ঘোষের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর ক্লাব কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।