শুভেন্দুর বৈঠকে TMC-র MP কাকলি, নতুন কি বার্তা দিলেন বারাসতের সাংসদ

বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক নতুন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। মঙ্গলবার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিজে আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা তিন জেলার (নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা) প্রশাসনিক বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত হলেন তৃণমূলের এই প্রবীণ সাংসদ।
বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার: মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর কল্যাণীর ওই প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আসেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর সঙ্গেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় তৃণমূলের দুই বিধায়ককেও—দেগঙ্গা ও স্বরূপনগরের বিধায়করা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ঢোকার মুখে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “প্রশাসন সবার। এটা কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়, প্রশাসনিক বৈঠকে আমরা চিরকালই আসি।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জল্পনা: সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে দলবদলের জল্পনা বেশ ঘনীভূত হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তাঁকে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এর পরপরই তিনি বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং নাম না করে ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তাও প্রদান করেছে, যা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নতুন নীতি: উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর প্রশাসনিক বৈঠকগুলোতে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদেরও ডাকা হবে। সেই নীতি মেনেই এদিন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কীভাবে দেখছেন, এখন সেটাই দেখার। একদিকে দলে বেসুরো মন্তব্য ও পদত্যাগ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজিরা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে কাকলি ঘোষ দস্তিদার আসলে কোন পথে হাঁটছেন, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নানা মুনির নানা মত।