BLA-এর হাতে ফের মার খেল পাকিস্তান, সেনা ট্রেনে বড়সড় হামলায় মৃত ৮২

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর বড়সড় আঘাত হানল বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। সোমবার বালুচিস্তানের কোয়েটা ক্যান্টনমেন্টের অদূরে একটি সামরিক শাটল ট্রেন লক্ষ্য করে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে বালোচ বিদ্রোহীরা। বিএলএ-এর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৮২ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২১ জন।

কীভাবে ঘটল এই হামলা? বিএলএ-এর কুখ্যাত ‘মজিদ ব্রিগেড’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলাটি কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে চামান ফটক এলাকার কাছে চালানো হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা নাগাদ তাদের এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি ট্রেনটিতে আঘাত করে। অভিযানে তাদের ‘জিরাব’ নামক গোয়েন্দা শাখা ও ফিদায়েঁ ইউনিটের সদস্যরা অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

বিএলএ-এর হুঁশিয়ারি

সংগঠনটির দাবি, নিহতদের তালিকায় পাক সেনার একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নন-কমিশনড অফিসার এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সৈনিকরা রয়েছেন। বিএলএ অভিযোগ করেছে, বালোচিস্তানে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে পাক সেনা রেল পরিকাঠামোকে গোপন পরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করছিল। এই হামলা তাদের সেই নেটওয়ার্কে বড়সড় ধাক্কা দিল। বালুচিস্তান থেকে পাক রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব মুছে ফেলার অঙ্গীকার করে বিএলএ সাফ জানিয়েছে, বালোচদের ওপর অত্যাচারের বদলা নিতেই এই অভিযান।

পাক সেনার নীরবতা বিশাল এই ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এলেও পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা ইমরান খানের সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা বা হামলার সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাক সেনার দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কোয়েটার মতো হাই-সিকিউরিটি জোনে এই হামলা পাকিস্তান সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং স্থানীয়দের ওপর পাক সেনার অত্যাচারের জেরে দীর্ঘকাল ধরেই সেখানে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। অতীতেও একাধিকবার পাক বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে বিএলএ। কিন্তু প্রতিবারই দমন-পীড়নের পথে হেঁটে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান, যা আজকের এই রক্তক্ষয়ী পরিণতির দিকে নিয়ে গেল।