রাজ্যজুড়ে পালাবদল, তবুও উধাও শওকত মোল্লা! মাতলা নদীর চর বুজিয়ে বিশাল ক্যাফে গড়ার অভিযোগ

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই নিখোঁজ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। ভোটের ফল প্রকাশের পর ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসনে’ যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো হদিশ নেই। এদিকে, তাঁর অনুপস্থিতিতেই প্রাক্তন বিধায়ক ও তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে মাতলা নদীর চর ভরাট করে বেআইনিভাবে বিশাল ক্যাফে গড়ে তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় ক্যানিং।

অভিযোগের মূলে যা:
ক্যানিংয়ের মৌখালী ব্রিজের কাছে মাতলা নদীর তীরে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অরণ্যের কুলে’ নামে একটি বিশাল ক্যাফে। অভিযোগ, বিঘার পর বিঘা নদীর চর মাটি ফেলে ভরাট করে এই নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুধু ক্যাফে নয়, মৌখালী ব্রিজের আশেপাশে কয়েকশো বিঘা সরকারি জমি দখল করে ভরাট করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লাকে দায়ী করা হচ্ছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
এই ক্যাফে ও নদী ভরাট এলাকাটি এসডিও (SDO) ও এসডিপিও (SDPO) অফিসের মাত্র ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এত কাছে দিনের পর দিন কীভাবে এই বেআইনি কাজ চলল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ঢাল করেই ইমরান মোল্লা এই অপকর্ম চালিয়েছেন। এর আগে এক ডেলিভারি বয়কে হকি স্টিক দিয়ে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দুষেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সরকারি জমি দখল করে রেস্তরাঁ ও লজ বানিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। এদিকে, তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এবং সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবেন।

প্রাক্তন বিধায়কের ‘নিখোঁজ’ হওয়া এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এই আর্থিক ও পরিবেশগত অপরাধের অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসন এখন এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।