‘কুকুর আমাদের পরিবারের সদস্য’, পঞ্জাব সরকারের অভিযানের কড়া সমালোচনা অভিনেতা সোনু সুদের

পাঞ্জাবের রাস্তায় থাকা কুকুরদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন অভিনেতা ও সমাজসেবী সোনু সুদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেছেন, কুকুরদের সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সোনু সুদের মানবিক আবেদন:
অভিনেতার মতে, বহু মানুষ প্রতিদিন রাস্তার কুকুরদের দেখাশোনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যের মতো মনে করেন। ভিডিওতে সোনু বলেন, “রাস্তার কুকুর খুবই বিশ্বস্ত। এলাকার বাসিন্দারা জানেন কোন কুকুর শান্ত আর কোনটি আক্রমণাত্মক। সবার সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।” সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, প্রতিটি কুকুরকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া বা মৃত্যুদান (Euthanasia) করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত কঠোর। পরিবর্তে, সরকারের উচিত তাদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা এবং পশুপ্রেমীদের সাহায্যে তাদের দত্তক নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। সোনু নিজেই এই কুকুরদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

পঞ্জাব সরকারের অবস্থান:
অন্যদিকে, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তার খাতিরেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মক কুকুরদের চিহ্নিত করে জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি, সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, রাস্তার কুকুরদের যত্ন নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে তাদের নিয়ম মেনে প্রতিপালন করা হবে। প্রয়োজনে আইনসিদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেছে প্রশাসন।

সোনু সুদের প্রস্তাবিত সমাধান:
সোনু সুদ এই সংকটের সমাধানে সাধারণ মানুষের কাছেও একটি পরামর্শ রেখেছেন। তিনি জানান, রাস্তার কুকুরদের যত্ন নেওয়ার সময় তাদের গলায় যেন পরিচয়সূচক কিছু (যেমন কাপড়ের টুকরো বা বেল্ট) বেঁধে দেওয়া হয়, যাতে বোঝা যায় কুকুরটির দেখভাল করার মতো কেউ রয়েছেন। তিনি সবাইকে রাস্তার কুকুর দত্তক নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবিকতা এবং জননিরাপত্তা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাটাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিনেতা সোনুর এই সক্রিয়তা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে পশুপ্রেমী ও প্রশাসনের মধ্যে এক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।