টিসিএস কাণ্ডে ১৫০০ পাতার চার্জশিট পেশ! যৌন হেনস্থা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণে অভিযুক্ত ৮

তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস (TCS)-এর নাসিক শাখায় ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্থা, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ মামলার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। শুক্রবার সেশন কোর্টে প্রায় ১৫০০ পাতার প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ধর্ষণ, ষড়যন্ত্র ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
চার্জশিটে নাম চার মূল অভিযুক্তের:
সেশন কোর্টে পেশ করা প্রথম চার্জশিটে নাম রয়েছে দানিশ এজাজ শেখ, তৌসিফ বিলাল আত্তার, নিদা এজাজ খান এবং মতিন মজিদ প্যাটেলের। উল্লেখ্য, ধৃত মতিন মজিদ প্যাটেল আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM)-এর একজন কর্পোরেটর। অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে গা ঢাকা দিতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।
পুলিশের আনা গুরুতর অভিযোগ:
চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে:
ধারা ৬৪: ধর্ষণ।
ধারা ৬৮ ও ৭৫: প্রভাবশালী পদে থেকে যৌন হেনস্থা ও নিগ্রহ।
ধারা ২৯৯: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা।
ধারা ৬১(২): অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।
ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণই তুরুপের তাস:
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই মামলার অন্যতম শক্তি হলো অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ। অভিযুক্তদের সাথে নির্যাতিতা কর্মীদের হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইমেল ট্রেইল এবং ফরেনসিক প্রমাণের স্ক্রিনশট চার্জশিটের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। এই তথ্যপ্রমাণ থেকেই পরিষ্কার, কীভাবে দিনের পর দিন কর্মক্ষেত্রে ধর্মের দেওয়াল তুলে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হতো ওই কর্মীদের।
টিসিএস কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। টিসিএস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হেনস্থা বা ধর্মীয় চাপ সৃষ্টির বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ মেনে চলে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত কর্মীদের সাসপেন্ড করেছে সংস্থা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
নাসিকের টিসিএস অফিসে কর্মরত আটজন তরুণী প্রথম এই অন্ধকার দিকটি সামনে আনেন। তাঁদের সাহসিকতার জেরেই দেওলালি ক্যাম্প থানা এবং মুম্বই নাকা থানায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। আপাতত চার্জশিট পেশের পর অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির জন্য বাকি মামলাগুলোর তদন্তও দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।