‘আগে জেনে আসুন!’ পুরনিগমের নোটিস ইস্যুতে সাংবাদিকদের কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজের বাড়ির অংশ নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিস ঘিরে বিতর্কের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কাউন্সিলরদের বৈঠকের পর, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার বদলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন অভিষেক।

কী ঘটেছিল শুক্রবার?
বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন, তাঁর বাড়ির কোনো অংশ অবৈধ কি না এবং পুরনিগম থেকে সত্যিই কোনো নোটিস পাঠানো হয়েছে কি না। শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে গাড়িতে উঠে পড়লেও, সাংবাদিকদের লাগাতার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত গাড়ির কাচ নামান তিনি। অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের বলেন, “ধাক্কাধাক্কি করবেন না।”

এরপরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কলকাতা পুরনিগমে গিয়ে আগে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়। আগে সঠিক তথ্য জেনে আসুন, তারপর আমার কাছে উত্তর চাইবেন।” এরপরই তিনি গাড়ির কাচ তুলে নেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
অভিষেকের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভ্যাস আছে বলেই এই ধরনের প্রশ্ন শুনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরক্ত হচ্ছেন।”

বৈঠকে কী বললেন মমতা ও অভিষেক?
সূত্রের খবর, কালীঘাটের ওই বৈঠকেও প্রসঙ্গটি উঠে এসেছিল। সেখানে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নোটিস পাঠালেই কোনো বাড়ি ভেঙে ফেলা যায় না। এর জন্য নিয়ম মেনে যথাযথ শুনানির সুযোগ দিতে হয়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই মনে করছেন, পুরো বিষয়টি যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা আইনি প্রক্রিয়া বা নিয়ম মেনে হয়নি। একইসঙ্গে কাউন্সিলরদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে হবে এবং কোনো অন্যায় বাধা এলে তা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে হবে।