‘ডবল ইঞ্জিনের হাই স্পিডে ছুটবে বাংলা’! রোজগার মেলা থেকে নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বদ্ধপরিকর সরকার। শনিবার আয়োজিত ১৯তম জাতীয় ‘রোজগার মেলা’র মঞ্চ থেকে এই বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থান নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আগামী দিনে রাজ্যে সরকারি ও সরকার পোষিত সংস্থায় স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

নিয়োগে স্বচ্ছতার নতুন গাইডলাইন
রাজ্যের নিয়োগ নিয়ে অতীতে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা মুছে ফেলে নতুন যুগের সূচনা করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্য সরকার একটি নতুন আইন আনতে চলেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যে প্রধান নিয়মগুলি বাধ্যতামূলক করা হবে:

ওএমআর কার্বন কপি: প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে ওএমআর শিটের কার্বন কপি দেওয়া হবে।

মৌখিক পরীক্ষা: ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নম্বরের ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে ন্যূনতম নম্বর রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

স্কোর প্রকাশ: পরীক্ষার স্কোর রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হবে।

সংরক্ষণ নীতি: এসসি (SC), এসটি (ST) ও ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ নীতি যাতে যথাযথভাবে মানা হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।

‘ডবল ইঞ্জিনের’ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর সাম্প্রতিক ঘোষণার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৬১টি রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ এখন ডবল ইঞ্জিনের উন্নয়নের স্বাদ পেতে শুরু করেছে। আমরা সেই হাই স্পিডেই রাজ্যের উন্নয়নে ছুটব।”

কর্মসংস্থানের নতুন আশার আলো
বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের শিক্ষিত প্রজন্মের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তাকে কাটিয়ে আশার আলো দেখানোর ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ অনুসরণযোগ্য। রেল থেকে শুরু করে আধা সামরিক বাহিনীর চাকরির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় রেখে রাজ্য কাজ করবে। আমাদের লক্ষ্য, রাজ্যের হারানো গরিমা ফিরিয়ে আনা।”

এদিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের সদিচ্ছা বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এক ইতিবাচক মোড় নিতে চলেছে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ দূর হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।