ইম্পায় ধুন্ধুমার! ভরা বৈঠকে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের ওপর হামলা? রণক্ষেত্র টলিপাড়া

রাজ্যে পালাবদলের রেশ আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। শুক্রবার ইম্পা (EIMPA)-র বৈঠক ঘিরে তৈরি হলো নজিরবিহীন ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে সরব হন বিরোধী প্রযোজকদের একাংশ, যার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ইম্পা অফিস।

কী ঘটেছিল শুক্রবারের বৈঠকে? দীর্ঘদিন ধরেই পিয়া সেনগুপ্তের কার্যকাল নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল প্রযোজক ও ডিস্ট্রিবিউটারদের একাংশের মধ্যে। শুক্রবারের বৈঠক শুরু হতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শতদীপ সাহার নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষের দাবি, বিজেপি সরকার গঠনের ১৮ দিনের মাথায় ইম্পার সভাপতির পদ থেকে পিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সভাপতির অভিযোগ, বৈঠকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাইরের লোকজন ঢোকানো হয়েছিল এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।

মাঝপথে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে পিয়ার অভিযোগ: উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ফাইল হাতে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনেই তাঁর দিকে তেড়ে আসা হয়েছিল। পরিস্থিতির চাপে তিনি জ্ঞান হারান এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রবল মানসিক চাপের জেরে প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে তাঁর।

বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: এদিকে, পুলিশের উপস্থিতিতে বৈঠক পুনরায় শুরু হলে ধ্বনিভোটে রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া তিনি মানেন না। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পিয়া এবং শতদীপ সাহা—উভয়েই।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর টলিউডের এই সর্বোচ্চ সংগঠনের অন্দরে চলা এই সংঘাত আদতে সিনেমার ব্যবসার ক্ষতি করছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। এই ঘটনায় এখন চূড়ান্ত অস্বস্তিতে বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রি।