যুদ্ধের ছায়ায় মাথায় হাত মালদার আমচাষিদের! মধ্যপ্রাচ্যে থমকাল রফতানি, কী হবে এখন?

আম মরশুমের শুরুতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মালদার আমচাষিরা। বিশ্বের দরবারে মালদার আমের খ্যাতি থাকলেও, এবছর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে রফতানি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেখানে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে মালদার আম রফতানি হয়, সেখানে যুদ্ধের জেরে স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রায় থমকে গেছে। নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল এবং ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে আম রফতানি।

আমচাষি ও রফতানিকারকদের একাংশের মতে, যদিও ইউরোপ ও মার্কিন মুলুকে মালদার আমের চাহিদা ক্রমবর্ধমান, কিন্তু সেই বিপুল চাহিদা মেটানোর মতো পরিকাঠামোর অভাব এখনও প্রকট। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং, সঠিক সময়ে শীতল সরবরাহ ব্যবস্থা (Cold Chain) এবং সরাসরি বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বড় বাজারগুলো হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তবে আশার আলোও রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও উদ্যান পালন দপ্তরের উদ্যোগে আমের গুণমান বজায় রাখতে আধুনিক ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বিদেশ থেকে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ মেট্রিক টন আমের বরাত পাওয়ার। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে চাষিরা কতটা লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার, এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা এবং বিকল্প বাজারের সন্ধানে চাষিরা কতটা সফল হন।