সোনা পাপ্পু-র পর্দাফাঁস: কলকাতার ৩ জায়গায় ইডির ঝটিকা অভিযান, নিশানায় পুলিশ আধিকারিকের ঘনিষ্ঠরা!

সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার সাতসকালেই কলকাতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে হানা দিলেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পার্ক স্ট্রিট, চক্রবেড়িয়া এবং কসবায় চলছে এই ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান।
কেন এই তল্লাশি? ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি জমি দখল, হুমকি এবং জালিয়াতির অভিযোগে ধৃত ‘সোনা পাপ্পু’কে (বিশ্বজিৎ পোদ্দার) জেরা করে তদন্তকারীরা একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। ধৃতের সঙ্গে কলকাতার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেআইনি লেনদেনের যে ‘নেক্সাস’ বা চক্র গড়ে উঠেছিল, তারই শিকড় খুঁজতে এদিন বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দেওয়া হয়েছে।
নিশানায় কারা? তদন্তের গতিপ্রকৃতি বলছে, এবার ইডির মূল লক্ষ্য কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত।
-
কসবা: কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডির টিম। অভিযোগ, তিনি ডিসিপি শান্তনুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একাধিক থানায় একসঙ্গে কাজ করেছেন।
-
পার্ক স্ট্রিট: একটি ক্যাফেটেরিয়া কাম হোটেলে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এখানে সোনা পাপ্পু-র কোনো গোপন বিনিয়োগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
চক্রবেড়িয়া: এখানকার একটি আবাসনে এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডির দাবি, সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর নিয়মিত আর্থিক লেনদেন ছিল।
-
ফার্ন রোড: ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়ির উপরের ফ্ল্যাটেও হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেখানে বসবাসকারী এক সরকারি আধিকারিক, যিনি সম্পর্কে শান্তনুর আত্মীয়, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নেক্সাস-তদন্তে দিশা: বেহালার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদার, প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং সোনা পাপ্পু—এই তিনজনের অশুভ আঁতাঁত ভাঙতে মরিয়া ইডি। বিশেষ ইডি আদালত সোনা পাপ্পু-কে ২৮ মে পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এই তল্লাশি বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। যদিও এখন পর্যন্ত কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার বা বড় কোনো নথি উদ্ধারের কথা ইডির তরফে জানানো হয়নি।
তবে তদন্তের এই নতুন মোড় কলকাতা পুলিশের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।