ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ফুঁৎকারে ওড়ালেন মোজতবা! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা? জানুন আসল সত্যি!

ভূ-রাজনীতির দাবার বোর্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এবার সবচেয়ে বড় এবং নজিরবিহীন ধাক্কা দিল তেহরান। আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া পরমাণু সমঝোতার নতুন প্রস্তাবকে এক লহমায় খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতা মোজতবা খামেনেই। শুধু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করাই নয়, আমেরিকার রক্তচক্ষুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের গতি আরও তীব্র করার জন্য দেশের পরমাণু বিজ্ঞানীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মোজতবার এই একরোখা ও কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্কদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাব ও ওয়াশিংটনের কৌশল

হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় দফায় বসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) সৃষ্টির নীতিতে ফিরে গিয়েছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে একটি বিশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। শর্ত ছিল— ইরান যদি তাদের উচ্চ-স্তরের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment) পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সমস্ত শর্ত মেনে নেয়, তবেই আমেরিকার চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাববে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্পকে মোজতবার কড়া জবাব: “আর কোনো আপস নয়”

আমেরিকার এই প্রস্তাবকে ‘একতরফা এবং ব্ল্যাকমেলিং’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অতীতে পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে আমেরিকা নিজেই বেআইনিভাবে বেরিয়ে গিয়েছিল, তাই তাদের শর্ত মানার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দেশের পরমাণু এজেন্সিকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় মোজতবা নির্দেশ দিয়েছেন:

  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০% ছাড়াবে: ইরানের পরমাণু চুল্লিগুলিতে ইউরেনিয়ামের মজুত ও বিশুদ্ধতার মাত্রা আরও বাড়াতে হবে।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা নয়: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে মাথা নত না করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে তেহরানের মূল লক্ষ্য।

  • পরমাণু পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ: সমস্ত পরমাণু কেন্দ্রে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ (Centrifuges) স্থাপন করতে হবে।

তেহরানের সরকারি বার্তা: “আমেরিকা বা ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন হুমকি দিয়ে বা নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা যাবে, তবে তারা মস্ত বড় ভুল করছেন। আমরা আমাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে এক ইঞ্চিও পিছু হটব না।”

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন পরমাণু যুদ্ধের মেঘ?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজতবার এই অনমনীয় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক ও কূটনৈতিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা যদি ৯০ শতাংশে পৌঁছে যায়, তবে ইরানের পক্ষে পরমাণু বোমা (Nuclear Weapon) তৈরি করা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহল ইতিমধ্যেই এই নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন তেহরানের এই কড়া জবাবের পাল্টা হিসেবে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।