আবারও বিস্ফোরক মদন মিত্র! পুলিশকে নিয়ে কামারহাটির বিধায়কের কোন মন্তব্যে ছড়াল তুমুল শোরগোল?

নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মন্তব্য করে শিরোনামে থাকা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। তবে এবার পুলিশ-প্রশাসনকে নিয়ে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র যা বললেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এক প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি দাবি করেছেন, ক্ষমতায় না থাকলেও পুলিশ নাকি তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় পায়! লোকসভা ভোটের পরবর্তী আবহে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ঠিক কী বলেছেন মদন মিত্র?

সম্প্রতি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র কামারহাটির একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিরোধীদের নিশানা করার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন নিয়েও মুখ খোলেন মদন মিত্র। দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে তিনি বলেন:

“তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটা দল, যা মানুষের হৃদয়ে থাকে। আজ যদি আমরা ক্ষমতায় নাও থাকি, তাও পুলিশ প্রশাসন আমাদের ভয় পাবে। তৃণমূলের ক্ষমতা বা দাপট শুধু সরকারের চেয়ারের ওপর নির্ভর করে না।”

তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মদন মিত্র বোঝাতে চেয়েছেন যে দলের সাংগঠনিক শক্তি এতটাই মজবুত যে প্রশাসনও তাদের সমীহ করে চলে। কিন্তু বিরোধীরা এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ অন্য চোখে দেখছে।

তীব্র আক্রমণ বিরোধী শিবিরের

মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পর আর হাতছাড়া করতে ছাড়েনি বিরোধী দলগুলি। বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, “মদন বাবু অবলীলায় সত্যটা উগরে দিয়েছেন। উনি বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যে পুলিশ নিরপেক্ষ নয়, বরং তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। আর সেই কারণেই পুলিশকে ভয় পাওয়ার কথা বলছেন উনি।”

অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই ধরণের মন্তব্য রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলকে ভয় পাবে কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

অস্বস্তিতে শাসকদল?

তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যে দলের ভেতরেও কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে দলের পক্ষ থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে জানানো হয়েছে, মদন মিত্রের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন তৃণমূলের প্রতি মানুষের জনসমর্থন এতটাই বেশি যে কোনো অন্যায় বা চক্রান্তের সামনে দল মাথা নত করে না।

বক্তব্যটি ‘কালারফুল’ মদন মিত্রের নিজস্ব স্টাইলে বলা হলেও, পুলিশ ও শাসকদলের সমীকরণ নিয়ে যে বিতর্ক তিনি উসকে দিলেন, তা সহজে থামার নয়।