‘১৭টি নোটিশই ভুয়ো!’ অভিষেকের বিপুল সম্পত্তির ভাইরাল তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান এবং কলকাতা পুরসভার একটি কথিত নোটিশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে আসরে নামলেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতেই বিরোধীরা এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।
অভিষেকের বাড়ি ভাঙার নোটিশ! কী এই ভাইরাল বিতর্ক? গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নোটিশ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির একটি দীর্ঘ তালিকা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড, প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, পণ্ডিতিয়া রোড এবং ওস্তাদ আমির খান সরণি—এই সমস্ত এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর বাবা-মা এবং তাঁদের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কলকাতা পুরসভা মোট ১৭টি নোটিশ পাঠিয়েছে।
ভাইরাল নোটিশে কী দাবি করা হয়েছে? নোটিশে দাবি করা হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির বেশ কিছু অংশ বেআইনি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সেই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলতে হবে, নয়তো পুরসভা কড়া ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া বাড়ির ভেতরে লিফট ও এসকেলেটর বসানোর জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
“সবটাই বিজেপির সাজানো ভুয়ো গল্প”, তোপ কুণালের
এই নোটিশ ও সম্পত্তির তালিকাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘উস্কানিমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বারংবার জোর দিয়ে বলেন, তিনি এখানে নিজের ব্যক্তিগত মতামত দিচ্ছেন না, বরং দল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যই হুবহু তুলে ধরছেন।
কুণাল ঘোষ বলেন:
“বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য কিছু নেতাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দল এটাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য—তিনি এই ধরনের সস্তা অপপ্রচারের সামনে মাথা নত করবেন না।”
পুরোদস্তুর তদন্তের দাবি তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো পুরসভার লোগো দেওয়া ওই চিঠিটিকে ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করে তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, “কার কাছে কী নোটিশ গিয়েছে, তা আমাদের বা দলের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। সেটা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজ। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির যে তালিকা ঘোরানো হচ্ছে, তার পুরোদস্তুর তদন্ত হোক। কারা এই ভিত্তিহীন জিনিস রটাচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখা দরকার।” বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, গেরুয়া শিবিরই অভিষেক ও অন্যান্য নেতাদের নাম জড়িয়ে সম্পত্তির তালিকার এই ভুয়ো প্রচার চালাচ্ছে।
আইন আইনের পথে চলবে: কুণাল ঘোষের দাবি, যদি এই নোটিশ ও তালিকায় সামান্যতম সত্যতা থাকে, তবে আইন তার নিজের পথেই চলবে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেভাবে ঠিকানা মিলিয়ে মিলিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে তিনি জানান, নোটিশের সত্যতা নিয়ে যার নামে অভিযোগ, সঠিক সময়ে তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।