“আগের সরকার জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ভোট ব্যাঙ্ককে বড় দেখেছিল”— সীমান্ত কাঁটাতার বিতর্কে চাঁছাছোলা নতুন মুখ্যমন্ত্রী!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তুলতে বিএসএফ-এর হাতে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পরেই এবার পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, ২০ মে সন্ধ্যায় নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেবল ‘ভোট ব্যাঙ্কের’ নোংরা রাজনীতি করতেই বিগত সরকার বছরের পর বছর ধরে এই জমি আটকে রেখেছিল।
“১৪ দিনেই যা হলো, তা ১০ বছরে কেন হয়নি?” প্রশ্ন শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের (১৪ দিন) মধ্যে যেভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সীমান্তের ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নতুন রাজ্য সরকার, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসা চলছে। এই প্রেক্ষিতেই আজ নবান্নে দাঁড়িয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “আগের রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে এবং নিজেদের নির্দিষ্ট ভোট ব্যাঙ্ককে সুরক্ষিত রাখতে হয়তো বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেয়নি। অনুপ্রবেশ সচল রাখাই ছিল ওদের উদ্দেশ্য। কিন্তু আমাদের সরকার স্পষ্ট করে দিতে চায়— জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।”
কী এই সীমান্ত মেগা প্রজেক্ট?
নবান্ন সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া একাধিক জেলায় জমি জটের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ২৭ কিলোমিটার অংশে কোনো কাঁটাতারের বেড়া (Border Fencing) দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ওই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে রমরমিয়ে চলছিল অনুপ্রবেশ, জাল নোটের কারবার এবং গোরু পাচার।
শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসেই ভূমি দপ্তরকে এই জট কাটানোর কড়া নির্দেশ দেন। যার জেরে মাত্র ১৪ দিনেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করে দিল নতুন রাজ্য সরকার।
তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, শুরু জোর তরজা
মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ ও ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বের কাউন্টার দিতে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পূর্বতন সরকার কখনোই জাতীয় নিরাপত্তার বিরোধী ছিল না, কেবল কৃষকদের স্বার্থরক্ষা ও পুনর্বাসনের সঠিক প্যাকেজ না মেলার কারণেই জমি অধিগ্রহণে সময় লাগছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী সস্তা রাজনীতির জন্য এই নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছেন।
তবে নবান্নের মসনদে বসে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে বুলেট গতিতে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং একই সাথে পূর্বতন সরকারের ‘ফাইল’ খুলে আক্রমণ শানাচ্ছেন, তাতে আগামী দিনে এই রাজনৈতিক যুদ্ধ যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।