নবান্নে আসতেই মোদী-শাহের সাথে মাস্টার স্ট্রোক! সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে শুভেন্দু সরকারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ!

বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে যে অল-আউট গতি আসতে চলেছে, তার প্রমাণ মিলল আবারও। নবান্নের মসনদে বসার পর মাত্র দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন পার হয়েছে, আর এর মধ্যেই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান করে দেখালেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তুলতে এবং কাঁটাতারের বেড়া (Border Fencing) দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-এর হাতে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।
যা বছরের পর বছর থমকে ছিল, তা হলো মাত্র ১৪ দিনেই!
পূর্বতন সরকারের আমলে জমি অধিগ্রহণ (Land Acquisition) সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজ্য-কেন্দ্র দড়িটানাটানির কারণে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বহু অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল। যার ফলে অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে চোরাচালানের মতো ঘটনা লেগেই থাকত।
কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরেই এই ফাইলটি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় খোলার নির্দেশ দেন। নবান্ন সূত্রে খবর:
“মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত দুই সপ্তাহে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং সীমান্ত লাগোয়া জেলা প্রশাসনগুলি নজিরবিহীন গতিতে কাজ করেছে। সমস্ত আইনি জট কাটিয়ে বিএসএফ-এর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ২৭ কিলোমিটার জমি সম্পূর্ণ হস্তান্তর করা হয়েছে।”
মোদী-শাহের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে শুভেন্দু
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বাংলা সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে ১০০% কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই কেন্দ্রের সেই পরিকল্পনায় পূর্ণ সহযোগিতা করল রাজ্য। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা বা মালদার (প্রাসঙ্গিক সীমান্ত অঞ্চল) যে সমস্ত ‘ওপেন বর্ডার’ বা উন্মুক্ত সীমান্ত ছিল, সেখানে দ্রুত কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করতে পারবে বিএসএফ।
কড়া নজরে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে জাতীয় নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের ইস্যুতে তাঁর সরকার কোনো রাজনীতি বরদাস্ত করবে না। এই ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত পারের অপরাধ, জাল নোটের কারবার এবং অনুপ্রবেশ একধাক্কায় অনেকটাই রুখে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে শুভেন্দুর এই ‘ঝড়ো ব্যাটিং’ আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভোল পাল্টে দিতে পারে, এমনটাই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।