সন্দেশখালিতে মাঝরাতে মেগা অ্যাকশন! ইডি-র ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ ২ প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে ব্যাপক গতি এসেছে। এবার তোলপাড় ফেলা সন্দেশখালি কাণ্ডে ঘটল এক মস্ত বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হলেন সন্দেশখালির প্রাক্তন ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই প্রভাবশালী ও দাপুটে তৃণমূল নেত্রী।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সন্দেশখালি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী সবিতা রায় এবং অপর দাপুটে নেত্রী মিঠু সর্দার। এই জোড়া গ্রেফতারির পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্দেশখালি।

ইডি পেটানোর নেপথ্যে ছিল নারী বাহিনীর উস্কানি ও ষড়যন্ত্র!
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, গত বছর ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় শাহজাহানের বাড়ির সামনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে যে নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়েছিলেন ইডি অফিসাররা, তার পিছনে এই দুই নেত্রীর সক্রিয় উস্কানি, মদত এবং আর্থিক সংযোগ ছিল।

হাজার হাজার গ্রামবাসীকে ভুল বুঝিয়ে, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর চড়াও হওয়ার নেপথ্যে এই দুই নেত্রীই মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে মনে করছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত নেত্রীদের অপরাধের খতিয়ান শুধু ইডি-র ওপর হামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের অতীত রেকর্ডও অত্যন্ত ভীতিপ্রদ।

অন্যতম মূল অভিযুক্ত মিঠু সর্দারের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং এলাকায় বোমাবাজি ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে এর আগেও বারবার তাঁর নাম জড়িয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শেখ শাহজাহানের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় এই দুই নেত্রী রীতিমতো সমান্তরাল শাসন ও সমান্তরাল ক্ষমতা চালাচ্ছিলেন। তাঁদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেতেন না কেউ।

এলাকার এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারি এবং নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা নিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের (SP) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, তিনি এখনই এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও হাই-ভোল্টেজ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে বা মুখ খুলতে রাজি হননি।

তবে বিশেষ পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত দুই নেত্রীকে আজই মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জোরদার আবেদন জানানো হচ্ছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ওপর হামলা— প্রতি ক্ষেত্রেই এই মহিলারা ঠিক কী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং এর পিছনে আরও কোনো বড় মাথার হাত রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ।