“এবার তাড়িয়ে দেওয়ার পালা!” মুখ্যমন্ত্রী হতেই হুঙ্কার শুভেন্দুর, কাঁপছে বাংলাদেশের জামাত?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল ‘ঘুসপেটিয়া হঠাও’ (অনুপ্রবেশকারী হটাও) স্লোগান। আর রাজ্যের কুর্সিতে বসতেই সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কার্যত অ্যাকশন মোডে চলে এলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরাসরি ওপার বাংলার কট্টরপন্থী সংগঠন ‘জামাত-ই-ইসলামি’-কে তীব্র নিশানা করলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান হওয়ায় এরাজ্যের বিরোধী শিবিরের চেয়েও বেশি বুক কাঁপছে বাংলাদেশের জামাতিদের।

🚫 “নাম কাটা হয়েছে, এবার তাড়ানোর পালা!”

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস তো টেনশনে আছেই। তার চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা। আরে ভাই, আমি ভয় পাওয়ার লোক নই, মাথা নোয়ানোর লোকও নই। বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সব পালন করব। আমার কাছে দেশ আগে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার তাদের রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পালা।

⚡ শুভেন্দু সরকারের ৩টি বড় মাস্টারস্ট্রোক:

ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিজেপি সরকার: ১. সীমান্তে কাঁটাতার: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করতে বিএসএফ (BSF)-কে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমি দ্রুত মঞ্জুর করে দিয়েছে শুভেন্দু সরকার। ২. ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের মাসিক সরকারি ভাতা বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। ৩. অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো: “যেখান থেকে এসেছ, সেই রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত যাও”—এই নীতিতেই এগোচ্ছে প্রশাসন।

📍 ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতার ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে এক নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবানীপুরের একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের জন্য তিনি আপাতত কোনও কাজ করবেন না, আর সেটি হলো ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষও আমার জনতা, তবে ওদের কথা পরে ভেবে দেখব। কিন্তু ভবানীপুরের বাকি ওয়ার্ডগুলিতে আগামী এক মাসের মধ্যে ৭টি এমএলএ (MLA) অফিস চালু করে দেওয়া হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটব্যাংকের মেরুকরণ ও নির্বাচনী ফলাফলের সমীকরণকে মাথায় রেখেই শুভেন্দুর এই চরম সিদ্ধান্ত।

বিরোধী দলগুলি যখন এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে, ঠিক তখনই নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সীমান্ত ও রাজ্য সুরক্ষায় অনমনীয় মনোভাব বজায় রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Editor001
  • Editor001