জ্বালানি সংকটের রূপকথা! তেলের সাথে জল মিশিয়েই মিলবে ১০% সাশ্রয়, কীভাবে সম্ভব করল এই সংস্থা?

বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং আমদানির বিপুল খরচ যখন সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, ঠিক তখনই ত্রাতা হিসেবে হাজির হলো এক অভাবনীয় প্রযুক্তি। জলকে ব্যবহার করেই এবার জ্বালানি তেলের খরচ এক ধাক্কায় কমিয়ে আনার দাবি করছে একটি সংস্থা। পরিবেশবান্ধব এই আবিষ্কার আগামী দিনে শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় বিপ্লব আনতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি খাতের স্টার্টআপ ‘ফাউ ইকো সলিউশনস’ সম্প্রতি বাজারে এনেছে তাদের বিশেষ ‘জল-ভিত্তিক ফুয়েল ইমালশন’ প্রযুক্তি। সংস্থার দাবি, তাদের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবে। বর্তমান বাজারদরে যা অত্যন্ত লাভজনক এবং সাশ্রয়ী।

সাধারণত জল এবং তেল একে অপরের সাথে মেশে না। কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে জল মিশ্রিত করে একটি স্থিতিশীল ইমালশন তৈরি করা হয়। যখন এই জ্বালানি কারখানার বয়লার বা ইঞ্জিনে পোড়ানো হয়, তখন জলের ক্ষুদ্র কণাগুলো অতি-উচ্চ তাপমাত্রায় বাষ্পীভূত হয়ে তেলের দহন ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে তেলের অপচয় বন্ধ হয় এবং সামান্য জ্বালানিতেই অনেক বেশি শক্তি উৎপাদন সম্ভব হয়।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর পরিবেশবান্ধব চরিত্র। তেলের সম্পূর্ণ দহন নিশ্চিত হওয়ার কারণে ক্ষতিকারক কার্বন নির্গমন এবং বিষাক্ত ধোঁয়া উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ফলে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার জ্বালানি খরচ বাঁচানো সম্ভব, অন্যদিকে তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের এই আবহে শিল্প দূষণ রোধে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাপী তীব্র তেলের বাজারের বিকল্প হিসেবে এই ওয়াটার-ফুয়েল প্রযুক্তি আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।