ডায়মন্ড হারবারে খোদ ‘সেনাপতি’-কে চ্যালেঞ্জ! দলীয় কোন্দল ফাঁস হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে লোকসভা নির্বাচন— বারে বারেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রবীণ বনাম নবীন বিতর্ক প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার বার্তা অনেক প্রবীণ নেতাই যে পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। ডায়মন্ড হারবারের দলীয় নেতৃত্ব এবং টিকিট বণ্টন নিয়ে এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন ভরতপুরের হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
অভিষেকের সাম্প্রতিক কিছু সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবীণ এই নেতার দাবি, দলের শীর্ষ স্তরে এমন কিছু ঘটছে যা মেনে নেওয়া কঠিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে।
‘নিশ্চয়ই কাউকে হুমকি দিয়েছেন!’
দলের অন্দরের ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ক্ষমতা জাহির করতে দলেরই কোনো না কোনো স্তরের নেতা বা কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রকাশ্যেই তিনি মন্তব্য করেন, “অভিষেক নিশ্চয়ই কাউকে না কাউকে হুমকি দিয়েছেন বা অন্যায় কোনো নির্দেশ দিয়েছেন, যার জন্য দলের ভেতরে একটা ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে।” তাঁর মতে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েও যেভাবে নির্দিষ্ট কিছু জেলা এবং নির্দিষ্ট কিছু নেতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা দলের সামগ্রিক ভারসাম্যের পরিপন্থী।
টিকিট বণ্টন ও ‘নতুন তৃণমূল’ বিতর্ক
হুমায়ুন কবীরের এই বিস্ফোরক ক্ষোভের প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে সাম্প্রতিক লোকসভা ও উপ-নির্বাচনগুলোর টিকিট বণ্টন এবং সাংগঠনিক রদবদল। দলের পুরোনো ও বিশ্বস্ত সৈনিকদের বসিয়ে রেখে অভিষেক নিজের অনুগামীদের বা তুলনামূলক নবীনদের সামনের সারিতে নিয়ে আসছেন বলে প্রবীণ শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। ভরতপুরের বিধায়কের এই খোলাখুলি বিদ্রোহ আদতে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিনকে টেক্কা দেওয়া শাসক দল
এমনিতেই রাজ্যে বিরোধী শিবিরের লাগাতার আক্রমণ এবং একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাকফুটে রয়েছে শাসক দল। তার ওপর দলেরই একজন বর্তমান বিধায়ক যখন খোদ সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের সততা ও নেতৃত্ব দেওয়ার ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন, তখন অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে যায় কালীঘাটের। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফ থেকে অফিশিয়ালি কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে এই গৃহযুদ্ধ যদি দ্রুত ধামাচাপা না দেওয়া যায়, তবে জেলা স্তরে দলের সংগঠনে এর বড়সড় খেসারত দিতে হতে পারে তৃণমূলকে।