সোনা ও ক্যাশ টাকা নিয়ে সাবধান! আয়কর বিভাগের এই ভয়ঙ্কর নিয়মটি না জানলে দিতে হবে কোটি টাকার জরিমানা

ঘরে জমানো নগদ টাকা কিংবা লকারে রাখা সোনাদানা নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এবার চরম সতর্কবার্তা দিল আয়কর দফতর। আপনি যদি ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) ফাইল করার সময় নিজের উপার্জিত সমস্ত নগদ অর্থ বা সোনার সঠিক হিসাব না দেন, তবে অজান্তেই ঘনিয়ে আসতে পারে বড় বিপদ। আয়কর আইনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের কাছে অঘোষিত বা হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি পাওয়া গেলে, তার ওপর এক ধাক্কায় প্রায় ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা চাপাতে পারে আয়কর বিভাগ (Income Tax Department)।

আগে অঘোষিত আয়ের ক্ষেত্রে কর ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার যে চেনা ছক ছিল, তা রুখতেই এবার এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেন কাটা হতে পারে ৮৬ শতাংশ টাকা?

আয়কর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি কোনো করদাতার বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে আয়কর দফতর তল্লাশি চালায় এবং সেখানে এমন কোনো নগদ টাকা বা সোনা উদ্ধার হয় যার বৈধ আয়ের উৎস বা রসিদ ওই ব্যক্তি দেখাতে পারবেন না, তবে তা ‘অঘোষিত সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য হবে।

এই ধরনের অঘোষিত আয়ের ওপর মূল কর (Tax) চাপানো হয় ৬০ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয় ২৫ শতাংশ সারচার্জ এবং আরও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেস। সব মিলিয়ে করের অঙ্কটাই দাঁড়ায় প্রায় ৭৭.২৫ শতাংশ। এখানেই শেষ নয়, এর ওপর যদি আয়কর দফতর আরও ১০ শতাংশ জরিমানা (Penalty) যোগ করে, তবে সেই লগ্নিকারীকে নিজের মোট অঘোষিত সম্পত্তির প্রায় ৮৬ শতাংশই খুইয়ে বসতে হবে সরকারের ঘরে। অর্থাৎ, আপনার কাছে ১ লক্ষ টাকার অঘোষিত ক্যাশ বা সোনা থাকলে, তার ৮৬,০০০ টাকাই জরিমানা হিসেবে কেটে নেওয়া হবে।

ঘরে সোনা বা ক্যাশ রাখার আসল নিয়ম কী?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, তবে কি ঘরে সোনা বা নগদ টাকা রাখা অপরাধ? আইন অনুযায়ী, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। আপনার কাছে থাকা প্রতিটি জিনিসের বৈধ উৎস থাকা চাই।

  • নগদ টাকার ক্ষেত্রে: আপনার ঘরে যত টাকাই ক্যাশ থাকুক না কেন, আইটি রিটার্ন ফাইলের সময় সেই আয়ের উৎস স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। সেই টাকা যদি ব্যাংক থেকে তোলা হয়ে থাকে বা ব্যবসার বৈধ লাভ হয়ে থাকে, তবে কোনো চিন্তা নেই।

  • সোনার ক্ষেত্রে নিয়ম: ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনা রাখার ওপর আয়কর দফতর নির্দিষ্ট ছাড় দিয়ে রেখেছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT)-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন বিবাহিত মহিলা ৫০০ গ্রাম, অবিবাহিত মহিলা ২৫০ গ্রাম এবং পরিবারের প্রত্যেক পুরুষ সদস্য সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা বা সোনার গয়না কোনো আয়ের উৎস ছাড়াই ঘরে রাখতে পারেন। এর বেশি সোনা থাকলে তার বৈধ রসিদ বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।

বিপদ এড়াতে কী করবেন?

আয়কর দফতরের এই বিপুল জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে প্রতি বছর আইটিআর (ITR) ফাইল করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা। নিজের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, স্থায়ী আমানতের সুদ, শেয়ার বাজারের লাভ এবং সোনা বা অন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থাকলে তা ফাইলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করুন। কোনো তথ্য গোপন করার চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে স্ক্রুটিনি বা নোটিশের মুখে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।