মহাকাশে চরম উত্তেজনা! পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ছুটছে ‘২০২৬ জেএইচ২’, ধেয়ে আসা পাথরের আকার জানলে চমকে যাবেন

মহাকাশে আবার এক চরম রোমাঞ্চকর এবং একই সঙ্গে উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে মানবজাতি। মাত্র এক সপ্তাহ আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চোখে ধরা পড়া একটি প্রকাণ্ড গ্রহাণু বা গ্রহকণিকা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশালাকার এই গ্রহাণুটির আকার একটি পূর্ণাঙ্গ নীল তিমির সমান! আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবারই এটি আমাদের পৃথিবীর একেবারে গা ঘেঁষে মহাকাশের বুক চিরে বেরিয়ে যাবে।
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)-এর জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি জানিয়েছে, সদ্য আবিষ্কৃত এই গ্রহাণুটির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাস্টেরয়েড ২০২৬ জেএইচ২’ (Asteroid 2026 JH2)। মহাজাগতিক স্কেলে মাত্র কয়েক দিন আগে, অর্থাৎ মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিজ্ঞানীরা প্রথম এই গ্রহাণুটির অস্তিত্ব টের পান। মহাকাশের বিশালতার তুলনায় এত কম সময় আগে এত বড় একটি গ্রহাণু আবিষ্কার হওয়া এবং তা দ্রুত পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি চলে আসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে বাড়তি কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
নীল তিমির সমান আকার, তীব্র গতিতে আগমন
বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, এই গ্রহাণুটি লম্বায় প্রায় ১০০ থেকে ১২০ ফুট। অর্থাৎ, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমির আকারের সমকক্ষ এই মহাজাগতিক পাথর। এটি প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, প্রকাণ্ড আকার এবং তীব্র গতি থাকা সত্ত্বেও এই গ্রহাণুটির সঙ্গে পৃথিবীর সরাসরি সংঘর্ষের কোনো আশঙ্কা নেই। এটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই মহাকাশে নিজের কক্ষপথে এগিয়ে যাবে।
পৃথিবী থেকে কি দেখা যাবে এই দৃশ্য?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একাংশ জানিয়েছেন, পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার কারণে আধুনিক টেলিস্কোপ বা শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যে মহাকাশপ্রেমীরা এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। তবে সাধারণ মানুষের খালি চোখে এটি দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
মহাকাশে প্রতিদিন এমন হাজারো গ্রহাণু ঘুরে বেড়ায়, যার ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালায় নাসার ‘নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট অবজারভেশন প্রোগ্রাম’। তবে ‘২০২৬ জেএইচ২’-এর মতো বড় আকারের পাথরের পৃথিবীর এত কাছ দিয়ে চলে যাওয়া এবং মাত্র এক সপ্তাহ আগে তার সন্ধান মেলা—মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। আগামীকাল এই মহাজাগতিক অতিথি যখন পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে, তখন তার গতিবিধি থেকে আরও নতুন তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীরা।