জরিমানার ভয়ে কাঁপছে শহর! বাইক আরোহীদের জন্য লালবাজারের কোন নয়া ফরমান কাঁপিয়ে দিল রাজ্যকে?

খোলা হাওয়ায় চুল উড়িয়ে স্টাইল করে বাইক চালানোর দিন এবার শেষ। তিলোত্তমার বুকে ট্রাফিক আইন ভাঙার অভ্যাস রুখতে এবং পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীনভাবে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে ট্রাফিক পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে শুরু করে অলিপথ—সবত্রই চলছে পুলিশের ঝটিকা তল্লাশি ও নাকা চেকিং। পুলিশের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরে এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার ভয়ে রাতারাতি বদলে গেছে শহরের ছবিটা। জরিমানা এড়াতে এখন শহরের হেলমেটের দোকানগুলোতে আক্ষরিক অর্থেই উপচে পড়ছে বাইকারদের ভিড়।
কলকাতা পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মোটরবাইক আরোহীদের সুরক্ষার স্বার্থে কোনো রকম আপস করা হবে না। বিগত কয়েক দিনে দেখা গেছে, বহু আরোহী হেলমেট না পরেই বা স্রেফ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নামমাত্র প্লাস্টিকের টুপি মাথায় দিয়ে রাস্তায় বেরোচ্ছেন। এই প্রবণতা বন্ধ করতে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের স্পট ফাইন বা জরিমানার রাস্তা বেছে নিয়েছে পুলিশ। শুধু বাইক চালকই নন, চালকের পেছনে বসা সহ-আরোহীর মাথায় হেলমেট না থাকলেও সমান কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
পুলিশের এই আচমকা চিরুনি তল্লাশি ও ধরপাকড়ের জেরে স্বাভাবিকভাবেই হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে নিয়মভাঙা চালকদের মধ্যে। আইনত শাস্তি এবং পকেটের কড়ি বাঁচানোর তাগিদে শহরের নামী-দামী শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের সাধারণ হেলমেটের দোকান—সব জায়গাতেই এখন ক্রেতাদের লম্বা লাইন।
দোকানিদের একাংশ জানিয়েছেন, গত দু-তিন দিনে হেলমেটের বিক্রি এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আই এস আই (ISI) মার্ক যুক্ত ভালো মানের হেলমেটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনেক বাইকার আবার পুলিশের ফাইন থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি দোকানে এসে পছন্দের সাইজ ও রঙের হেলমেট খুঁজছেন।
ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকদের মতে, এই কড়াকড়ির মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা নয়, বরং তাঁদের জীবন সুরক্ষিত করা। জরিমানার ভয়ে হলেও মানুষ যে শেষ পর্যন্ত সচেতন হচ্ছেন এবং হেলমেট কিনছেন, একেই ট্রাফিক শৃঙ্খলার প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখছে লালবাজার। এখন দেখার, পুলিশের এই কড়া অবস্থান শহরের চেনা বাইক সংস্কৃতির বেপরোয়া ছবিতে কতটা স্থায়ী বদল আনতে পারে।