“গাড়ি লকডাউন” হওয়ার ভয়? রাতারাতি পেট্রল কেনার ধুম দেশজুড়ে, বড় সংকটের আশঙ্কায় আমজনতা

দেশজুড়ে আচমকাই পেট্রল পাম্পগুলোতে উপচে পড়ছে গ্রাহকদের ভিড়। বাইক থেকে শুরু করে চারচাকা গাড়ির চালকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে ট্যাঙ্ক ফুল করতে ব্যস্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ সময়ের তুলনায় রাতারাতি পেট্রল বিক্রির পরিমাণ এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে জ্বালানি কেনার এই নজিরবিহীন হিড়িক এবং পাম্পগুলোর সামনে মাইলের পর মাইল গাড়ির লাইন ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আমজনতার মধ্যে।

খুচরো বাজারে পেট্রলের এই অভাবনীয় চাহিদা বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে এক বড়সড় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। পরিবহন মহলের একটি বড় অংশের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, আগামী কয়েকদিনে দেশে জ্বালানি সরবরাহের চেইন বা সাপ্লাই লাইনে বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে ট্যাঙ্কার চালকদের ধর্মঘট বা আন্তর্জাতিক স্তরে অপরিশোধিত তেলের আমদানিতে কোনো সাময়িক সমস্যার গুজবের জেরে আমজনতার মধ্যে “প্যানিক বায়িং” বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জিনিস মজুত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

পেঁয়াজ বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মতো এবার পেট্রল নিয়েও কালোবাজারি বা আকালের ভয় গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আজ গাড়ি বা বাইকের ট্যাঙ্ক ফুল না করে রাখলে আগামী দিনে হয়তো যাতায়াত সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কার জেরেই অফিসফেরত যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ চালকেরা দলে দলে পাম্পের দিকে ছুটছেন।

এদিকে পেট্রল পাম্প অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রশাসনের তরফ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিলারদের একাংশের মতে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানির মজুত রয়েছে এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই। স্রেফ কিছু রটনা এবং গুজবের জেরেই মানুষ এভাবে আতঙ্কিত হয়ে পাম্পে ভিড় করছেন, যার ফলে অনেক জায়গায় সাময়িকভাবে তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো রকম কালোবাজারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করা হলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সরকারি এই আশ্বাসের পরও পাম্পগুলোর সামনে গাড়ির লাইন এবং পেট্রল বিক্রির এই ৫০ শতাংশের উল্লম্ফন পরিস্থিতিকে যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে রেখেছে।