“পুরসভা থেকে তালিকা আনিয়েছি!” ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে ভাইপোর প্রপার্টি লিস্ট নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন পুনর্নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় শীর্ষে পৌঁছে দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফলতার এক মেগা নির্বাচনী জনসভা থেকে নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। সরাসরি দাবি করলেন, ‘ভাইপোবাবু’র বিপুল সম্পত্তির গোপন খতিয়ান এবার তাঁর প্রশাসনের হাতের মুঠোয়।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবারই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম হাইপ্রোফাইল জেলা সফর। আর প্রথম রাজনৈতিক সভা করার জন্য তিনি বেছে নেন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতাকে।
জনসভা থেকে হুঙ্কার ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পরিষ্কার বলে যাচ্ছি, মাননীয় ভাইপোবাবু, কালই পুরসভা থেকে আপনার প্রপার্টি লিস্টটা আনিয়েছি। শুধু এই কলকাতা শহরের বুকেই আপনার ২৪টা সম্পত্তি রয়েছে।” বিভিন্ন দুর্নীতি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই বিপুল সম্পত্তির তালিকা এখন রাজ্য প্রশাসনের নজরে রয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, ডায়মন্ড হারবার এবং ফলতা এলাকায় বিগত দিনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক অত্যাচারের হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের পুলিশকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, সব কল রেকর্ডস আর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দিতে হবে। ভাইপোর পিএ-এর কথায় ও ইশারায় যাঁরা এতদিন এখানে রাজত্ব চালিয়েছেন, মানুষের ওপর অত্যাচার করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হবে। আইন সবার জন্য সমান।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী ২১ মে ফলতা কেন্দ্রে হতে চলেছে পুনর্নির্বাচন। গত এপ্রিলের নির্বাচনে এই কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন এখানে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই ভোটকে সামনে রেখেই এদিন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে আগামী ২১ মে ফলতায় যাতে প্রতিটি মানুষ সম্পূর্ণ নির্ভয়ে নিজেদের ভোট দিতে পারেন, সেই আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভাইপোর সম্পত্তি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক দাবি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।