ফলতায় কি তবে ফুল বদল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে শিউরে ওঠার মতো সমীকরণ!

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে হতে চলেছে হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের শেষ লগ্নে এসে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ একবারে ওলটপালট হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে যেমন এই কেন্দ্রে পদ্ম ফোটানোর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে বিজেপি শিবির, ঠিক অন্যদিকে তেমনই নিঃশব্দে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে এবং ভোট শতাংশ বাড়াতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে সিপিএম। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুই বিরোধী শিবিরের এই চরম তৎপরতার জেরে ফলতায় এবার ফুল বদল হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ২১ মে-র এই পুনর্নির্বাচনকে অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রথম দফার ভোটের পর যে সমস্ত বুথে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে এবার নিশ্ছিদ্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট করাতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। আর এই কড়া নিরাপত্তার সুযোগ নিয়েই ফলতার মাটিতে ঘাসফুল শিবিরকে হটিয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে চাইছে বিজেপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ফলতায় মাটি কামড়ে প্রচার চালাচ্ছে।
তবে এবারের ফলতার লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় টুইস্ট এনেছে বামেরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বামেদের ভোটব্যাঙ্কে যে ধস নেমেছিল, তা এবার অনেকটাই জোড়া লাগার মুখে। সিপিএম নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হলো, দলের পুরনো ক্যাডার ও ভোটারদের বুথমুখী করা এবং ভোটের শতাংশ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে নেওয়া। বামেদের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে তাঁরা এক ইঞ্চি জমিও প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দেবেন না।
ফলতার গ্রাউন্ড জিরোর রিপোর্ট বলছে, যদি সিপিএম নিজের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে পারে এবং ভোট শতাংশ বাড়াতে সফল হয়, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শাসকদলের ওপর। আবার অন্যদিকে, কড়া নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ভোট যদি পুরোপুরি বিজেপির ঝুলিতে যায়, তবে ফলতায় এক বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে যেতে পারে। ২১ মে-র এই পুনর্নির্বাচনে ফলতার আমজনতা কার ভাগ্য নির্ধারণ করে, এখন সেটাই দেখার।