আরজি কর থেকে স্বাস্থ্য দপ্তরের দালালরাজ, প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুঙ্কার দিলীপের! তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনা থেকে শুরু করে সরকারি হাসপাতালগুলোর অন্দরে চলা ‘দালালরাজ’— একাধিক ইস্যুতে রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তাঁর দেওয়া এক চরম হুঁশিয়ারি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিজেপির এক দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলো এখন আর সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জায়গা নেই, তা দালালে ছেয়ে গিয়েছে। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “মেডিকেল কলেজগুলোর ভেতরে কী চলছে, তা প্রশাসন ভালো করেই জানে। কিন্তু সিন্ডিকেট আর কাটমানির চক্করে সব চেপে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”
বক্তব্য রাখার সময় দুর্নীতিবাজ ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তারা মনে রাখবে দিন চিরকাল এক থাকে না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পিঠের চামড়া গুটিয়ে হাতে দিয়ে দেওয়া হবে। আমরা চুপ করে বসে থাকার লোক নই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা নিয়ে আমজনতার মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তাকেই আরও উস্কে দিল। বিশেষ করে গ্রাউন্ড লেভেলে আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে এবং প্রশাসনের ওপর চাপ বজায় রাখতেই বিরোধী শিবিরের এই রণকৌশল।
পাল্টা শাসকদলের পক্ষ থেকে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ এবং ‘সংস্কৃতিহীন’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আরজি করের ঘটনা নিয়ে আইন মেনে তদন্ত চলছে। কিন্তু বিজেপি কোনো গঠনমূলক কাজ না করে স্রেফ বাজার গরম করতে এবং সস্তা রাজনীতি করতেই এই ধরনের হিংসাত্মক ভাষা ব্যবহার করছে। তবে রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, দিলীপ ঘোষের এই “চামড়া গুটিয়ে নেওয়া”-র হুঁশিয়ারি যে আগামী কয়েকদিন রাজনীতির অলিন্দে চর্চায় থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।