মিঠুনের নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে হঠাৎ হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী নিয়ে চলল মহানির্দেশ?

বাংলায় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নয়া সমীকরণের সাক্ষী থাকল নিউ টাউন। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন হঠাৎ করেই হাজির হন প্রবীণ অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নিউ টাউনের বাসভবনে। দুই হেভিওয়েটের এই আকস্মিক সাক্ষাৎ ঘিরে সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মুখোমুখি হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও মহাগুরু।

মিঠুনই জয়ের আসল কারিগর: কুর্নিশ শুভেন্দুর
বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলায় বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেন মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনেতাকে বাংলায় দলের বিজয়রথের ‘অন্যতম প্রধান কারিগর’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “বিগত পাঁচ বছর ধরে মিঠুনদা যেভাবে সাংগঠনিক স্তর থেকে শুরু করে বুথ স্তরে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন, তা এককথায় অতুলনীয়।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া আনতে এবং দলের ভিত শক্ত করতে যাঁরা দিন-রাত এক করে খাটুনি খেটেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই তিনি আজ ব্যক্তিগতভাবে মহাগুরুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।

১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: জল্পনা তুঙ্গে
এদিন দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথাবার্তা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করার ক্ষেত্রে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পেছনে নতুন সরকারের কোনো বড় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পদের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বাংলায় ক্ষমতা দখলের পর, দলের তারকা প্রচারককে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে ঘরে গিয়ে সম্মান জানানোকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।