মহিলাদের অ্যাকাউন্টে এবার প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে জুনের আগেই বিরাট ধামাকা নবান্নের

বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন সরকারের একাধিক প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগের সরকারের সমস্ত জনমুখী প্রকল্পই চালু থাকবে। তবে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন পোর্টাল নিয়ে আসতে চলেছে রাজ্য সরকার। যার নাম ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে এবার থেকে অনলাইনেই আবেদন করতে হবে। আগামী জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হতে পারে। কীভাবে আবেদন করবেন এবং কারা এই টাকা পাবেন, দেখে নিন বিস্তারিত গাইডলাইন।
ঘরে বসেই অনলাইন আবেদন: জেনে নিন ধাপে ধাপে
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবার ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। আবেদন করার সম্ভাব্য সহজ পদ্ধতিগুলি নিচে দেওয়া হলো:
প্রথম ধাপ (লগইন): প্রথমে গুগলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ লিখে সার্চ করে নির্দিষ্ট সরকারি অফিশিয়াল পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি দিলে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি সাবমিট করে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে লগইন করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (ব্যক্তিগত তথ্য ও ডকুমেন্টস): পোর্টালে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবা বা স্বামীর নাম এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ভুলভাবে টাইপ করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট কলামে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুকের কপি এবং সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
তৃতীয় ধাপ (ব্যাঙ্কের বিবরণ ও সাবমিট): যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে টাকা ঢুকবে, সেই অ্যাকাউন্টের নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বসাতে হবে। সবশেষে পুরো ফর্মটি আরও একবার যাচাই করে নিয়ে ‘Submit’ বোতামে ক্লিক করতে হবে। ফর্ম জমা পড়ার পর স্ক্রিনে যে রসিদ বা অ্যাকনলেজমেন্ট কপিটি (Acknowledgement Receipt) দেখা যাবে, তা ভবিষ্যতের জন্য ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখতে হবে।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে?
অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করার সময় নিচের তথ্য ও নথিপত্রগুলি হাতের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক:
ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা আধার কার্ড
ভোটার আইডি কার্ড
রেশন কার্ড
ব্যাঙ্কের পাসবুক (যেখানে আইএফএসসি কোড স্পষ্ট রয়েছে)
আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি
ওটিপি পাওয়ার জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? (যোগ্যতার মাপকাঠি)
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং মহিলা হতে হবে।
মহিলার বয়স সর্বনিম্ন ২৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
আবেদনকারীকে নিম্ন আয়ের পরিবার বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির সদস্য হতে হবে।
পরিবারের কাছে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির (BPL/AAY/PHH) রেশন কার্ড থাকতে হবে।
এছাড়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত একটি বার্ষিক আয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হবে, তার কম আয় হতে হবে।
কারা এই টাকা পাবেন না?
প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অযোগ্যদের ছাঁটাই করার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অযোগ্য কেউ যাতে প্রকল্পের টাকা না পায়, তার দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হবে।
কোনও স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট বার্ষিক আয়ের সীমার ওপরে যাঁদের আয়, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন না।
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন কোনও মহিলা এই সুবিধা পাবেন না।
অফলাইনে কি আবেদন করা যাবে?
প্রাথমিকভাবে অনলাইন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হলেও, গ্রামীণ এলাকার প্রান্তিক মহিলাদের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় ব্লক অফিস (BDO) বা পুরসভা (Municipality) অফিসের মাধ্যমেও ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার একটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। তবে অফলাইন প্রক্রিয়ার বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত বা স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। পোর্টালটি পুরোদমে চালু হলেই এই বিষয়ে সম্পূর্ণ গাইডলাইন সামনে আসবে।