রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় খবর! পরের সপ্তাহেই কি ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ধামাকা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর?

বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর আজ প্রথম শনিবারেও বন্ধের দিনে শান্ত নেই নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংসের অলিন্দ। এই মুহূর্তে রাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর নজর আটকে রয়েছে দুটি প্রধান বিষয়ে— সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) এবং কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA)। ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁর এই নতুন জমানার শুরুতেই সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা নিয়ে জল্পনা ও আশা এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস ও নতুন আশা
বিগত সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের দাবিতে মাসের পর মাস রাজপথে আন্দোলন চালিয়েছেন, অনশন করেছেন। আইনি লড়াই গড়িয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের রায় কর্মচারীদের পক্ষে থাকলেও, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়া টাকা মেটাননি বলেই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
তবে পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন তিনি নিজে বহুবার ডিএ আন্দোলনকারীদের মঞ্চে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, তিনি এখন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার এবার অবসান ঘটবে।
সুপ্রিম কোর্টে সময় চাইল নয়া সরকার
এদিকে, বকেয়া ডিএ মামলাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের নতুন সরকার তাদের হলফনামা ও সুনির্দিষ্ট মতামত পেশ করার জন্য আরও তিন সপ্তাহের সময় চেয়ে নিয়েছে। এর অর্থ হলো, মে মাসের শেষ সপ্তাহের দিকেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই মেগা মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে। নতুন বিজেপি সরকার আদালতে কর্মীদের পক্ষে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীরা।
৪৫ দিনের সেই প্রতিশ্রুতি কি এবার সত্যি হচ্ছে?
নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলায় ক্ষমতা বদল হলে প্রথম ৪৫ দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো শীর্ষ নেতারাও এই গ্যারান্টি দিয়েছিলেন।
বর্তমানে মহাকরণ বা নবান্ন থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও, নবান্নের অন্দরে গুঞ্জন তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে নয়া সরকার হয়তো খুব শীঘ্রই সমস্ত বকেয়া ডিএ একলপ্তে মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আগামী সপ্তাহেই কি বড় ঘোষণা?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে রাজ্য ক্যাবিনেটের প্রথম বড় বৈঠকে মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই বিষয়ে মন্ত্রিসভাই শেষ সিদ্ধান্ত নেবে। নতুন সরকারের এই সদিচ্ছায় বুক বাঁধছেন কর্মচারীরা। তাঁরা আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকার একটি বড় অঙ্ক ঢুকতে চলেছে।