“যারা যাওয়ার চলে যান, আমি কাউকে আটকাব না!” ভোটের ভরাডুবির পর মেজাজ হারিয়ে এ কী বললেন মমতা?

নির্বাচনী বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে এবার একেবারে ফুল ফর্মে ময়দানে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল দলীয় সাংসদদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠকের পর, আজ পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে কালীঘাটে এক হাইভোল্টেজ ‘ময়নাতদন্ত’ বৈঠকে বসেন তিনি। ভোটে ভরাডুবির কারণ খুঁজতে গিয়ে এদিন দলের অন্দরের ক্ষোভ ও দলবদলু নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সাফ জানিয়ে দেন, দলের ক্ষতি করে যারা থাকতে চান না, তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।

বৈঠকে অত্যন্ত কড়া সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার তাঁরা বেরিয়ে চলে যান, আমি কাউকে আটকাব না। যাঁরা পড়ে থাকবেন তাঁরা নিরেট সোনা।” এর পরেই দলের ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের শিরায় শিরায় নতুন করে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে এবার নিজেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামার বার্তা দেন তিনি।

দলীয় সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “আমি নতুন করে দলকে গড়ব। পার্টি অফিস রঙ করুন। ভেঙে যাওয়া অংশ সারিয়ে তুলুন। অনেকেই এখন রঙ বদলাচ্ছে, তারা চলে যান। প্রয়োজনে আমি নিজে পার্টি অফিস রঙ করব।” একই সাথে নির্বাচনী হারের প্রকৃত কারণ জানতে সব জেলাকে কড়া নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এলাকাভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট কালীঘাটে পাঠাতে হবে।

এদিনের বৈঠক থেকে কর্মীদের নতুন করে চাঙ্গা করতে বেশ কিছু রণকৌশলও ঠিক করে দেন মমতা। ব্লক, টাউন ও অঞ্চল স্তরে ছোট ছোট করে মিটিং-মিছিল শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, ভোট-পরবর্তী হিংসায় যারা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাদের একটি তালিকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। ঘরছাড়াদের আইনি সহায়তার পুরো বিষয়টি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজেই দেখভাল করবেন বলে জানান তিনি।

দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেফাঁস মন্তব্যকারী নেতাদেরও কড়া হুঁশিয়ারি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দলবিরোধী বেফাঁস মন্তব্য করা অবিলম্বে বন্ধ করুন। যে যা বলছেন, সব আমার নজরে আছে। এতদিন কেন দলকে কিছু বলেননি? এবার কিছু বলার থাকলে সরাসরি দলকে জানান।” এদিনের বৈঠকে প্রতিটি জেলার ফল ধরে ধরে পর্যালোচনা করেন নেত্রী এবং জেলাওয়ারি নেতাদের পারফরম্যান্সের খোঁজ নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের এই ধাক্কা কাটিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে সম্পূর্ণ নতুন চেহারায় আনতেই মমতার এই রুদ্ররূপ।