‘খেলা’ এবার শুভেন্দুর কোর্টে! মসনদে বসেই বিধানসভায় কোন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

নির্বাচনের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের পর বাংলায় সবেমাত্র সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আর কুর্সিতে বসার পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনে পা রেখেই চিরপরিচিত মেজাজে ধরা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে তিনি এমন এক বড়সড় ঘোষণা করলেন, যা শুনে একপ্রকার নজিরবিহীনভাবে থমকে গেল বিরোধী শিবির। শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোকে যেমন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তেমনই কার্যত হতবাক হয়ে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুঁদে রাজনীতিকরাও।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম দিকে বিরোধীদের কোণঠাসা করার কৌশল নেওয়া হয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং থমকে থাকা প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত বিধায়কের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি হওয়া একাধিক অমীমাংসিত জনমুখী প্রকল্পের কাজ যাতে রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আটকে না যায়, তার জন্য একটি বিশেষ সর্বদলীয় কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই সমন্বয়বাদী এবং গঠনমূলক রাজনীতির বার্তা শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যায় বিধানসভার কক্ষ। কারণ, নির্বাচনের আগে এবং পরে যে ধরণের তীব্র রাজনৈতিক তরজা এবং সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তাতে শাসক দলের থেকে এমন নমনীয় অথচ দূরদর্শী পদক্ষেপ আশা করেনি বিরোধী শিবির।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানালেও, দলের ভেতরের রণকৌশল নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দুর এই এক ঘোষণাতেই যে বিধানসভার চেনা সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গেল, তা স্বীকার করছেন লালবাজার ও নবান্নের অলিন্দে ঘোরাফেরা করা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই সহযোগিতার আহ্বানকে বিরোধীরা কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক চাল লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।