অন্য দল থেকে এলেই জুটবে না টিকিট! ৩ মাস কোনও ‘যোগদান’ নয়, কেন এমন কড়া দাওয়াই সুকান্তর উত্তরসূরির?

নির্বাচনের ঠিক পর পরই রাজ্য রাজনীতিতে যে দলবদলের চেনা খেলা শুরু হয়, এবার তাতে একপ্রকার জোর ধাক্কা দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। সুকান্ত মজুমদারের পর বাংলার রাজ্য সভাপতি পদে বসা শমীক ভট্টাচার্য এক নজিরবিহীন ও কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী তিন মাস অন্য কোনও রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপিতে কোনও স্তরের বড়সড় যোগদান করানো হবে না। রাজ্য সভাপতির এই কৌশলগত সিদ্ধান্তে এবার সিলমোহর দিয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলও।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীতে ভোটের আগে বা পরে যেভাবে অন্য দল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নেতা-কর্মীদের পদ্ম শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছিল, তা হিতে বিপরীত হয়েছে। আদি বনাম নব্যের লড়াইয়ে বারে বারেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে। তাছাড়া নির্বাচনের সময় টিকিট পাওয়ার লোভে বা ভোট মিটতেই ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে যাঁরা শিবির বদল করেন, তাঁদের বিশ্বস্ততা নিয়েও দলের অন্দরে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি দল ভারী করার চেয়ে নিজেদের সংগঠনকে নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।

দলের রাজ্য সদর দফতর সূত্রে খবর, সুনীল বনসলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাংগঠনিক বৈঠকেই এই প্রস্তাবটি পেশ করেন শমীকবাবু। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়, যত্রতত্র যোগদান দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। দলবদলুদের ভিড়ে দলের খাঁটি ও পুরনো কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সুনীল বনসল এই যুক্তিতে সায় দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, এখন লক্ষ্য হবে দলের ভিত মজবুত করা, বাইরে থেকে লোক এনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা নয়।

বিজেপির এই রণকৌশলের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক মাঝারি ও বড় মাপের নেতা, যাঁরা তলে তলে গেরুয়া শিবিরে পা বাড়ানোর জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছিলেন। তিন মাসের এই লক-ইন পিরিয়ড বা নো-এন্ট্রি বোর্ডের কারণে আপাতত তাঁদের নিজেদের দলেই পড়ে থাকতে হবে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজ্য বিজেপি পুরনো কর্মীদের এই বার্তাই দিতে চাইল যে, দল তাঁদের আবেগ ও লড়াইকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শমীকের এই প্রথম বড় চাল আগামী দিনে বঙ্গ বিজেপির চেহারা কতটা বদলাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।