“কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শক, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ঘরবাড়ি”—ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধনা অভিষেকের

বাংলায় দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের পরেও উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। এবার ভোট পরবর্তী হিংসা এবং গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে সরাসরি কেন্দ্রকে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন অভিষেক। সেখানে তিনি দাবি করেন, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জোর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা গণনা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
“নীরব দর্শক ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী”
ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক লিখেছেন, “কেন্দ্র বারবার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাংলা ভয়াবহ হিংসার সাক্ষী হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী স্রেফ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যখন আমাদের কর্মীদের বাড়ি ও অফিসে আগুন লাগানো হয়েছে।” এই সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই হারের পর তাঁরা দমে যাচ্ছেন না। তাঁর কথায়, “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। প্রতিটি বেআইনি কাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে আমরা সাংবিধানিক ও আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানাব।” দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সুপ্রিম কোর্টের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তৃণমূল সৈনিকদের বার্তা
দলের কঠিন সময়ে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে অভিষেক বলেন, “তৃণমূল পরিবারের প্রত্যেক সৈনিককে তাঁদের অবিচল লড়াইয়ের জন্য ধন্যবাদ জানাই। জনগণের রায়কে খর্ব করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সত্যকে চিরকাল চাপা দিয়ে রাখা যায় না। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।” শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মীদের মানুষের সেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যেতে হয়েছে তৃণমূলকে। তবে গণনায় অনিয়মের যে অভিযোগ অভিষেক তুলেছেন, তা নিয়ে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আইনি লড়াই কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।