RUSHvsUKR: মজুত প্রায় শেষ, যুদ্ধে ৪০ বছরের পুরনো গোলাবারুদ ছুড়ছে রাশিয়া

প্রায় ১০ মাস ধরে ইউক্রেনে টানা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। এতে কমছে রুশ গোলাবারুদের মজুত। তাই বাধ্য হয়ে ইউক্রেনে হামলার কাজে ৪০ বছরের পুরনো গোলাবারুদ ব্যবহার করছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে প্রায় ১০ মাস আগ্রাসন চালানোয় রাশিয়ার গোলাবারুদের মজুত কমতে শুরু করেছে। আর এ কারণে উচ্চ ব্যর্থতার হার থাকা সত্ত্বেও কয়েক দশক পুরনো গোলাবারুদের দিকে ঝুঁকছে রুশ সামরিক বাহিনী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন ঐ কর্মকর্তা বলেন, তারা (রাশিয়া) পুরনো দিনের গোলাবারুদ ব্যবহার করছে। যা ইঙ্গিত দেয় যে, তারা সেই পুরনো গোলাবারুদ ব্যবহার করতে ইচ্ছুক। এসব গোলাবারুদের মধ্যে কিছু মূলত ৪০ বছরেরও বেশি আগে উৎপাদিত হয়েছিল।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়ার তার নিজেদের গোলাবারুদের নিয়মিত সরবরাহ শেষ করে ফেলায় এ ধরনের সামরিক সরঞ্জামের জন্য দেশটি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার দিকে ঝুঁকছে।
ঊর্ধ্বতন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা একটি মূল্যায়ন সামনে এনে বলেন, রাশিয়া যদি বিদেশি সরবরাহকারী ও পুরনো মজুতের আশ্রয় না নেয় তবে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে গোলাবারুদের ব্যবহারযোগ্য মজুত সম্পূর্ণরূপে শেষ করে ফেলবে দেশটি।
মার্কিন ঐ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মূল্যায়ন হচ্ছে, রাশিয়া যে হারে তার কামান ও রকেট গোলাবারুদ ব্যবহার করছে তাতে তারা সম্ভবত ২০২৩ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে পারবে।
তার দাবি, গোলাবারুদের পুরনো মজুত ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।
গত শুক্রবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়ার কাছে ড্রোন সরবরাহ করেছে বলে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। মূলত মস্কো ইরানের কাছ থেকে শতশত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিনিময়ে তেহরানকে অভূতপূর্ব সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।
বারবারা উডওয়ার্ড আরও বলেন, ব্রিটেন ‘প্রায় নিশ্চিত যে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়া (এবং) অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করতে চাইছে, কারণ তাদের নিজস্ব মজুত স্পষ্টভাবে কমে যাচ্ছে।’
ইরান অবশ্য গত মাসে মস্কোকে ড্রোন সরবরাহের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু তেহরানের দাবি, এসব ড্রোন ইউক্রেনে যুদ্ধের আগে পাঠানো হয়েছিল।
এছাড়া রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলার জন্য ইরানের ড্রোন ব্যবহার করছে এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছে রাশিয়া। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগও অস্বীকার করে থাকে মস্কো।