সুপ্রিম কোর্টের পর এবার হাইকোর্টে ‘আইনজীবী’ মমতা! চন্দ্রিমা-কল্যাণকে নিয়ে কেন হঠাৎ আদালতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? জানলে চমকে যাবেন!

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া। তবে আজ সকাল ১০টার পর কলকাতা হাইকোর্টের মূল ফটকের সামনে যা দেখা গেল, তা এককথায় নজিরবিহীন। সাদা শাড়ির ওপর আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত কালো কোট এবং গাউন— দীর্ঘ কয়েক দশক পর সম্পূর্ণ পেশাদার আইনজীবীর অবতারে হাইকোর্টে প্রবেশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন আচমকা আদালতে মমতা?
সম্প্রতি রাজ্যে সম্পন্ন হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসার অভিযোগ উঠছিল। এই ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র অভিযোগ তুলে গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় মামলাটি করেন। গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেছিল। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতেই আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করতে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরনো পেশায় প্রত্যাবর্তন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে একজন পেশাদার আইনজীবী, তা অনেকেরই জানা। কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রিধারী মমতা বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে পারেননি। এদিন তাঁর সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী-নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এজলাসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি আইনি এবং রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নজিরবিহীন লড়াই
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত একটি মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একইভাবে আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করতে দেখা যাওয়া অত্যন্ত বিরল।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে না থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ঘরে বসে থাকার পাত্রী নন, তা তিনি আজ প্রমাণ করে দিলেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মোকাবিলা করতে তিনি এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন। একদিকে যখন নতুন সরকার তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে সরব, তখন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি সক্রিয়তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, এখন সেটাই দেখার।
ভোট পরবর্তী হিংসার এই মামলায় আজ আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।