লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, এবার আসছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! ৩০০০ টাকা পাওয়ার সহজ উপায় ও তারিখ জানালেন মন্ত্রী!

নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় আসার আগে গেরুয়া শিবিরের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল মহিলাদের আর্থিক উন্নয়ন। সেই মতো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে এবার রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। তবে এই প্রকল্পের টাকা কবে থেকে পাওয়া যাবে এবং আবেদনের পদ্ধতি কী হবে— তা নিয়ে এতদিন যে ধোঁয়াশা ছিল, আজ তা সবিস্তারে খোলসা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পয়লা জুন থেকেই মিলবে ৩ হাজার টাকা
আগের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে মহিলাদের মাসে ১৫০০ টাকা করে দিত। বিজেপি ক্ষমতায় এসে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হবে। ফলে জুনের শুরুতেই রাজ্যের মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা ঢুকতে চলেছে।
আবেদন হবে শুধুমাত্র অনলাইনে
আগে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন জানানো যেত, কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। মন্ত্রী জানান, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পুরোটাই অনলাইনে করতে হবে। যারা শিক্ষিত বা যারা শিক্ষার আলো দেখেননি— সকলের সুবিধার্থে আবেদনের পোর্টালটি অত্যন্ত সহজভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে কারও কোনো সমস্যা না হয়।”
কারা পাবেন আর কাদের নাম কাটা যাবে?
প্রকল্পের যোগ্যতা নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন:
পুরনো সুবিধাভোগী: যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন।
সিএএ ও ট্রাইব্যুনাল: যারা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন কিংবা যাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের টাকা পাবেন। তাদের নাম কাটা যাবে না।
যাচাই প্রক্রিয়া: যাদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গেছে, তারা এই দেশের নাগরিক কি না তা যাচাই করার পরেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কারা পাবেন না: কোনো রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া কোনো উপভোক্তা মারা গেলে সেই নামটিও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
সরকারের এই ঘোষণার পর একদিকে যেমন ৩০০০ টাকা পাওয়ার আনন্দে খুশির হাওয়া রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে, তেমনই অনলাইন আবেদন এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কড়াকড়ি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। সব মিলিয়ে, জুন মাস থেকেই রাজ্যের নারী উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।