রাজ্যজুড়ে বন্ধ হচ্ছে অবৈধ টোল গেট: শুভেন্দু সরকারের অ্যাকশন শুরু, কড়া বার্তা মুখ্যসচিবের!

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এবার রাজ্যজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসন। বিশেষ করে রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা অবৈধ টোল প্লাজা এবং ড্রপ গেটগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নবান্ন।

বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত সমস্ত টোল প্লাজা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মূলত রাজ্যের পরিবহন অপারেটরদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। ভোটের আগেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে রাস্তার ধারের অবৈধ সিন্ডিকেট রাজ ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ
মুখ্যসচিবের জারি করা ওই নির্দেশে প্রতিটি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলাশাসকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সাফ জানানো হয়েছে, জেলাজুড়ে কোথায় কোথায় সরকারি অনুমতি ছাড়া ড্রপ গেট, ব্যারিকেড বা টোল আদায় কেন্দ্র চলছে, তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। শুধু শনাক্ত করাই নয়, এই ধরনের সমস্ত বেআইনি পরিকাঠামো দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদেশে কী বলা হয়েছে?
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাঠানো ওই আদেশে বলা হয়েছে:

অনুমোদনহীন সব জায়গায় টোল আদায় তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে।

ভবিষ্যতে যাতে এই কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু না হতে পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

বৈধ টোল কেন্দ্রগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে, যেখানে দরপত্রের মেয়াদ এবং আদায়কারী কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য থাকবে।

আগামী ১৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে এই বিষয়ে একটি সমন্বিত রিপোর্ট অতিরিক্ত সচিবের দপ্তরে জমা দিতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। নির্বাচনের সময় বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, সরকারি মদতে বিভিন্ন রাস্তায় অবৈধ ড্রপ গেট বসিয়ে চাঁদাবাজি করা হয়। সরকার গঠনের পরপরই সেই সিন্ডিকেট রাজ ভাঙতে সক্রিয় হওয়াকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবং পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।